মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০

স্নাতকের দিনগুলির ষোলআনা - পর্ব ২৫

 

প্যাকেজ শব্দটার সাথে প্রথম পরিচিতি সেই ছোটবেলায়, বিয়ে কিংবা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে একটা টিম আসত…এরা বিভিন্ন রকম হাস্যরসাত্মক কর্মকান্ড করতো, এদেরকেই বলা হতো প্যাকেজ। আর আমাদের আশে পাশের কারো নিত্যনৈর্মিত্তিক কার্যকলাপ যদি এমন হাস্যরসের জন্ম দিতো তবে তার কর্মকান্ড কে-ও প্যাকেজ নাম দেয়া হতো। ইংরেজিতে আবার প্যাকেজ বলতে বোঝায় একসাথে পুরো একটা সিস্টেম বা ব্যাবস্থা।

নভেম্বর মাস আর ডিসেম্বরের বেশ কটা দিন চলে গেছে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায়। পরীক্ষা কথা অবশ্য না বললেই চলছে, এই ফাইনাল পরীক্ষার সময় একটু জমিয়ে লেখাপড়া করেছিলাম কিনা তাই বইয়ের পাতা, লেকচার শীট আর নোট ছাড়া চোখের সামনে কিছুই ভেসে উঠছে না। শেষ পরীক্ষায় দিনেই আমরা কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছিলাম এই ছুটিতে একটা ট্যুরের সাম্ভাব্যতা নিয়ে আর এই আলোচনাতেই “প্যাকেজ” শব্দটার সূত্রপাত যার রেশ ছিল পুরো ট্যুর জুড়ে।

-কক্সবাজার চল, ওখানে আমার বড় ভাইয়ের বন্ধুর কটেজ আছে।

-না না, সিলেট যাই চল। ওখানে আমার বন্ধুর মেসে উঠা যাবে।

-সিলেট গেলে বাজেট বেশি পড়বে, কক্সবাজারে দু-তিনদিন থেকে চলে আসব। এই ধর দু-এক হাজার, সবকিছু একটা প্যাকেজের ভিতর হয়ে যাবে।

-আচ্ছা, ঠিকাছে। বাকিরা কি বলে দেখ।

ওয়ারিফের সাথে আলোচনা হচ্ছিল কোথায় ট্যুর দেয়া যায় এই নিয়ে। এরই মধ্যে ওয়ারিফ বাকিদের সাথে কথা বলে ঠিক করল কক্সবাজারই ট্রিপ হবে। বাকিদের মধ্যে ছিল রবিন, তানভীর আর দীপ্ত। ছোটখাটো গ্রুপ করে গেলেই ঝামেলা কম হবে এই ছিল আমাদের পরিকল্পনা। এর আগেও অবশ্য রাশেদ ক্লাসের সবাই মিলে আশেপাশে কোথাও ট্যুর দেয়ার জন্যে বারবার বলে আসছিল। কিন্তু ওই, মানুষ বেশি তো...এক এক জনের এক এক রকম সমস্যা। আর এসবে বিরক্ত হয়েই আমাদের পাঁচ জনের ছোট্ট এই “প্যাকেজ টিম”।    

পরিকল্পনামতো ডিসেম্বরের হালকা কুয়াশাচ্ছন্ন কোন এক সকালে আমরা চারজন একত্রিত হলাম অলঙ্কার বাস স্টেশনে, আরেকজন টিম মেম্বার দীপ্ত উঠবে নতুন ব্রীজ থেকে। স্টেশনের পাশের একটা টঙ থেকেই পরটা-ডিম ভাজি আর চা দিয়ে সকালের নাস্তা সেরে নিলাম। একটু পরই কক্সবাজারের বাস ছেড়ে দেবে, তাড়াহুড়া করে তাই উঠে পড়লাম বাসে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত আমাদের এই কক্সবাজার, এর আগে কখনো যাওয়া হয়নি…সেবারই বন্ধুদের সাথে প্রথমবার।

ভোর সাড়ে ছটায় বাস ছেড়ে দিল, চেনা শহরের রাস্তা ধরে সাঁই সাঁই করে বাস ছুটে চলছে আমার পরিচিত গণ্ডির সীমানা ছাড়াতে। এর আগেও অবশ্য চট্রগ্রাম ছেড়েছি বেশ কবার, কিন্তু প্রত্যেক বারই কোন না কোন কাজের উদ্দেশ্যে। এবার পুরোপুরি চিন্তামুক্ত আর স্বাধীন প্রাণ, একটাই উদ্দেশ্য বন্ধুদের নিয়ে ক’টা দিন সাগর সৈকতের সান্যিধ্যে কাটানো আর নিজেদের মতো করে ঘুরে বেড়ানো। এসব কিছু ভাবতে ভাবতেই বাস নতুন ব্রীজ চলে এলো, উঠে পড়ল আমাদের আরেক সহযাত্রী দীপ্ত। দীপ্ত এসে আসন গ্রহণ করতে না করতেই আমাদের “প্যাকেজ” টিম এক অন্য মাত্রায় রূপ নিল। আমাদের হইহুল্লোরে আগ্রহী হয়ে পুরো বাসভর্তি লোকজন আমাদের দিকে উঁকি দিয়ে দেখছিল। আমাদের আসনগুলোও পড়েছিল বাসের একেবারে মাঝামাঝি, বন্ধুরা সব একত্রিত হয়ে যেন ক্যাম্পাসের আড্ডা জমে উঠলো চলন্ত এই বাসেই। এরই মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার জন্যে সকলের মনযোগ আকর্ষণ করলো আমাদের ম্যানেজার ওয়ারিফ।

-আচ্ছা, এখন কথা হচ্ছে আমাদের এই ট্যুরটা হচ্ছে একটা প্যাকেজ। মানে নিজেরা নিজেদের টাকা একসাথে করে ওখান থেকে সব খরচ করব। সবাই আপাতত দুই হাজার টাকা করে দিয়ে দে আমাকে। এইখান থেকে সব খরচ হবে, ট্যুর শেষে বাঁচলে ফেরত, আর এক্সট্রা লাগলে আবার নেয়া যাবে।

-হ্যাঁ, সিস্টেম টা ঠিক… কিন্তু রবিন আর দীপ্ত তোরা তো পোন্দে-মুখে বিড়ি টানে। ওদের বিড়ির টাকা এই প্যাকেজ থেকে খরচ করতে পারবি না।

-আচ্ছা ঠিকাছে যা, নিজের পকেটের টিয়া দি খাইয়ুম। তুই টেনশন ন গরিছ। - দীপ্ত আর রবিন আমাকে আশ্বস্ত করল।

বোয়ালখালি, পটিয়া, চন্দনাইশ , সাতকানিয়া … প্রায় এক ঘন্টার কিছু বেশি সময় ধরে বাস চলছিল। চলা না বলে একে টানা বললেই বোধ হয় মানায় বেশ, Hino AK1j ইঞ্জিনের সাঁই সাঁই গর্জন আর একের পর এক ওটি(ওভারটেক) এর ফিল নিতে নিতে লোহাগড়ার দিয়ে ছুটে চলছিলাম আমরা। ইতোমধ্যেই দীপ্ত আর রবিন বিড়ি ফুঁকার জন্যে প্যানপ্যান করা শুরু করছে, কবে যাত্রা বিরতি দিবে…আর নেমে বিড়ি ফুকবে। ওয়ারিফ আমাদের আশ্বস্ত করলো লোহাগড়া গিয়েই বাস যাত্রা বিরতি দেবে। আরো মিনিট বিশেক চলার পর একটা রেস্টুরেন্ট এর সামনে এসে বাস যাত্রা বিরতি দিলো, যথারীতি পাগলা দুইটা নেমে পড়ল ধোঁয়া আর জল উৎগীরণের তাগিদে।

যাত্রা বিরতি শেষে আবারো বাস ছুটে চলল কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। ওয়ারিফের বাড়ি লোহাগাড়া, এই লোহাগাড়া কেন…কিভাবেই বা নাম হলো এই লোহা গাড়াগাড়ির, এই নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ তর্ক চলল আমাদের মাঝে। এরপর ক্ষাণিক বাদেই ওয়ারিফ চেঁচিয়ে বলল

-আমার লোহাগাড়া শেষ, এইবার শাওনের চকরিয়া।

-কোন শাওন? ক্লাসে দুজন শাওন ছিল বিধায় ওয়ারিফকে প্রশ্ন করলাম।

-আরে CR শাওন।

-ও আচ্ছা।

এভাবে মজা করতে করতে আমরা প্রায় তিনঘন্টা বাসজার্নি শেষে কক্সবাজার সদর এসে পৌছালাম। কোথায় নামব, কোথায় উঠব কিছুই জানিনা…সব আমাদের প্যাকেজ ম্যানেজার ওয়ারিফের হাতে।  বাসের সুপারভাইজার হাঁকডাক করছিল “কলাতলী পয়েন্ট যারা যারা নামবেন সামনে চলে আসেন”। দেখলাম ওয়ারিফের কোন ভ্রুক্ষেপ নাই, তাই আমিও চুপ করে রইলাম। আবার কিছুক্ষণ পর সুপারভাইজার বলল “সুগন্ধা পয়েন্ট” এবার আমি আর চুপচাপ থাকতে পারলাম না।

-কিরে ওয়ারিফ, এখানে এগুলা কিসের পয়েন্ট। এরকম কয়টা পয়েন্ট আছে সামনে? আমাদের পয়েন্ট কত?

-দাঁড়া দাঁড়া। সামনেই নামি যাব। ব্যাগ ট্যাগ গুছাই নে।

লাবনী পয়েন্ট আসতেই আমরা সবাই ওয়ারিফের পিছু পিছু নেমে পড়লাম, এরপর কেবলই হাঁটা আর হাঁটা। ওয়ারিফ পকেট থেকে একটা কার্ড বের করে কাকে যেন ফোন দিচ্ছিল, খানিকটা চিন্তিত দেখাচ্ছিল ওকে।

-কিরে কি হইছে তোর? তানভীর ওয়ারিফকে প্রশ্ন করল।

-আরে বড় ভাই ওর বন্ধুর কটেজের নাম্বার দিছিল, কল দিতেছি ধরতেছে না।

-তাহলে এখন কি হবে?

-দেখি না আরো কিছুক্ষণ চেষ্টা করে, আর নাহয় অন্য একটা কটেজে উঠব আরকি।

-আচ্ছা, চল।

অনেক্ষণ এদিক-ওদিক হাটাহাটির পর অবশেষে কটেজের পরিচালক আমাদের নিতে আসলেন। উনার পিছু পিছু গিয়ে আমরা চেক ইন করলাম আর আমাদের রুম বুঝে নিলাম। দুই বেড এর রুম…মোটামুটি বড়ই আছে, পাঁচ জনের জন্যে খারাপ না। সামনের বারান্দাটা বেশ সুন্দর। একজন একজন করে গোসল সেরে নিচ্ছিলাম, এরপর একটু বিশ্রাম নিয়ে দুপুরের খাবার খেতে বেরোব। একেবারে বিকেলের দিকেই বীচে যাবে বলে সিদ্ধান্ত নিলো সবাই। কিন্তু আমার ইচ্ছে করছিল বীচে গিয়েই গোসলটা সেরে আসি, সকলের সাথে মানিয়ে চলতে গিয়ে নিজের ইচ্ছেটাকে দমিয়ে রাখতে হল।

ওয়াশরুম থেকে বেরোতেই দেখি পুরো রুম ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। প্রথমে ভেবেছিলাম আগুন লেগেছে, পরে দেখি দুই খাটাশ রুমের দরজা জানালা বন্ধ রেখে বিছানায় শুয়ে শুয়ে বিড়ি টানছে। মনে মনে যে ভয়টা পাচ্ছিলাম, এদের জ্বালায় রাতে ঘুমোতেই হয়ত পারব না। রাগে ছাইপাশ বকতে বকতে তাড়াতাড়ি দরজা-জানালা খুলে দিয়ে বাইরে গেলাম ওয়ারিফ আর তানভীরকে খুঁজতে, এরা দুজন পরিচালকের সাথে আশপাশটা ঘুরে দেখছে আর সব নিয়ম-কানুন বুঝে নিচ্ছে। ওদের সাথে আশেপাশে ঘুরে এসে সবাই মিলে চললাম দুপুরের খাবার খেতে। প্যাকেজ ম্যানেজার যে রকম আয়োজন করছিল তাতেই সবার সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছিল, অবশ্য সবার মতামত নিয়েই সবকিছু হচ্ছিল। ভালমন্দ দুপুরের খাবার খেয়ে চায়ের দোকান খোঁজা শুরু করলাম, টিমের সব কয়টার চায়ের নেশা প্রচুর। আর তাই কালক্ষেপণ না করে খুঁজে খুঁজে টঙের দোকানের চা খেয়ে কটেজে ফিরলাম।

দুপুরের হালকা ঘুমের পর ভ্রমণ ক্লান্তি একেবারেই কেটে গেল, সবাই মিলে এবার বিচে যাবার পালা। বিকেলটা আমাদের মন্দ কাটল না, যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই প্যাকেজ আর প্যাকেজ। লাবনী বীচের আশপাশটা ঘুরে আর সাগরের উন্মত্ত জলরাশির সান্যিধ্য নিতে নিতেই সন্ধ্যে নেমে এলো সৈকতে। কটেজে গিয়ে গোসল করে নিলাম, প্যান্টের পকেটে পকেটে বালি ঢুকে গেছে। সন্ধ্যেয় আবারো সবাই মিলে বেরিয়ে বীচের রাতের পরিবেশ উপভোগ করছিলাম। ঝিনুক মার্কেট, কাকড়া-গলদা চিংড়ি ভাজা, আলোর রোশনাই, গানের আসর কিংবা সাগর সৈকতের শোঁ শোঁ বাতাস… যা দেখছি আর উপভোগ করছি তাতেই প্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছিল। রাতে খেয়েদেয়ে কটেজে ফিরে আমরা সবাই মিলে একটা মজার পরিকল্পনা করলাম। অপারেশন “প্যাকেজ ফান”। মানে অপরিচিত নাম্বার থেকে বন্ধুদের কল দিয়ে দিয়ে সবাই মিলে মজা নেয়া।

<<<<আগের পর্ব    পরের পর্ব>>>> 

বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০

স্নাতকের দিনগুলির ষোলআনা - পর্ব ২৪

 

সেদিন অবশ্য গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে ক্যাম্পাস ঘুরতে হয়নি, ইলেকট্রনিক্স মার্কেট থেকে সরাসরি চলে গেলাম সিমেন্স হোস্টেলের “Unity Dreams” কোচিং এ। দোতলায় উঠে পরিচালকের রুমের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে দেখি বেশ সুদর্শন ফ্রেঞ্চ কাট শ্মশ্রুসুলভ এক যুবক খুব সাবলীলভাবে ক্লাস নিয়ে যাচ্ছে। কোচিং পরিচালকের কক্ষে ঢুকেই জিজ্ঞাস করলাম  ফ্রেঞ্চ কাট টিচার টা কে ? পরিচালক অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন, যেন তিনি কিস্তিমাত করে ফেলেছেন।
-কি বুঝলি? সেই হ্যান্ডসাম না? (পরিচালক আমার সমবয়সী হওয়ায় আমরা একরকম বন্ধুই ছিলাম)
-হ্যাঁ, ছেলেমেয়েরা তো দেখি হা করে লেকচার শুনছে।
-হুম, একাউন্টিং এর নতুন টিচার।
-ও আচ্ছা, আমি তাহলে আমার ক্লাস নিতে গেলাম।
টানা দুটো ক্লাস শেষ করে শিক্ষক রুমে গিয়ে দেখি সেই ফ্রেঞ্চ কাট দাঁড়ির যুবক, মুখে তার হাসি যেন লেগেই আছে। পরিচালক আমাদের পরিচয় করিয়ে দিলেন।
-হ্যালো, আমি নিশাত।
-আমি সানি। কোথায় আছেন?
-চবি… IERT
-IERT মানে?
-এডুকেশন রিসার্স এন্ড ট্রেইনিং, আপনি?
-ও আচ্ছা। আমি ইইই তে পড়ছি একটা প্রাইভেট ভার্সিটি তে আছি।
-ইইই মানে তো ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ?
-হ্যাঁ। 

নিশাতের সাথে সেদিনের পরিচয়ের পর ভেবেছিলাম হয়তোবা খুবই অহংকারী আর রাগী মানুষ হবে। কিন্তু ক্রমে ক্রমেই আবিষ্কার করলাম খুব সাদাসিদে, প্রাণখোলা, পরোপকারী আর প্রকৃতিপ্রেমী এই ছেলেটি। ক্লাস নেয়ার ফাঁকে ফাঁকে খুব কমই গল্প-আড্ডা হতো নিশাতের সাথে, তবে ক্লাস শেষে কখনো কখনো গল্প-আড্ডা চলতো জমিয়ে। বিশেষ করে ওই দিনটির কথা তো সর্বদাই মনে পড়ে, যেদিন রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম থাকায় আমি আর নিশাত গল্প করতে করতে হেঁটে হেঁটে স্টীল মিল পর্যন্ত চলে এসেছিলাম। কথার মধ্যে ছিল আমাদের ফেলে আসা অতীত, ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনা ইত্যাদি ইত্যাদি। মজার বিষয় হচ্ছে সেই নিশাত এখনো একটুকুও বদলায়নি। আমার ভ্রমণপিপাসু এই বন্ধুটি করোনা মহামারীর মধ্যেই সেন্টমার্টিন দ্বীপে কাটিয়ে দিলো পুরো পাঁচটি মাস। এভাবেই চলার পথে কিছু কিছু মানুষের সাথে আপনার দেখা হয়ে যাবে আর জীবনের কোন এক সন্ধিক্ষণে সেই মানুষগুলোর ছোট ছোট স্মৃতিগুলো নিংড়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়বেন- আহা, এইতো জীবন।

জন্মদিন নিয়ে আমার তেমন কোন বাড়াবাড়ি ছিল না কখনোই। এই ফেসবুক আসার পর থেকে যদি না টাইমলাইন বন্ধুদের শুভেচ্ছাবার্তায় ভরে না যেত, হয়তোবা ভুলেই যেতাম এই বিশেষ দিনটি। মজার ব্যাপার হচ্ছে এবারের জন্মদিনে এই দিনটিতেই সাপ্তাহিক ছুটির দিন পড়েছে , তাই ক্যাম্পাসে গিয়ে বন্ধুদের ট্রিট নামক ঝামেলা থেকে রেহায় পেয়ে গেছি বলে মনে মনে শোকর করছিলাম। কিন্তু ক্যাম্পাসে না থাকলে কি-হবে, টিউশনে তো যেতেই হবে। বিকেল বেলা গেলুম সিমেন্স হোস্টেলের একটা টিউশনে, এই টিউশনটা পেয়েছি বেশিদিন হয়নি। যেই কোচিং এ ক্লাস নিতাম সেখানকারই একজন ছাত্রী, নাম নিতু। কোচিং এর নিচতলায় ওর বাবার একখানা রেস্টুরেন্ট ছিল, যেথায় প্রায়শই চা-নাস্তা করতাম। একদিন নিতুর বাবা ডেকে পরিচয় দিয়ে ওনার মেয়েকে পড়াতে বললেন, ব্যাস…সে থেকেই এই সিমেন্স হোস্টেল কলোনীর শেষ বিল্ডিংটায় সপ্তাহে চারদিন পড়াতে আসা।
-কি ব্যাপার নিতু? আজকে একটা ম্যাথও সলভ করতে পারছ না।
-কই, না তো ভাইয়া !
-তোমার আজকে কি হইছে বল তো ? নার্ভাস দেখাচ্ছে তোমাকে আজ ।
-কে বলছে ? আচ্ছা, থাক ভাইয়া…ম্যাথ বাদ দিয়ে ফিজিক্স নিই।
-আচ্ছা নাও, কিন্তু তোমার কিছু তো হইছেই … লেট মি গেস !
-স্কুলের কোন পরীক্ষায় খারাপ করছ?
-না ভাইয়া !
-কেউ কি বকা দিছে?
-না ভাইয়া!
-শরীর খারাপ নাকি তাহলে ?
-আরে ধুরু…না না। আসলে বলতেছিলাম কি আপনার জন্যে একটা গিফট আছে।
-আমার জন্যে গিফট ! হা হা হা, অনেক মজা হইছে এইবার পড়ায় মনযোগ দাও।
-আরে শোনেন না, আজকে আপনার জন্মদিন না ?
-তুমি কেমনে জানলা ?
-জানি জানি, আমার আব্বুর ফেসবুক আইডি আমিও চালাই। আপনি ওই আইডি তে কানেক্ট আছেন তো।
-ও আচ্ছা, এই তাহলে কাহিনী।
-এই যে আপনার জন্যে গিফট।
দেখলাম নিতু তার ব্যাগ থেকে একটা সুন্দর বক্স বের করল আর বলল-“আমি আব্বুকে বলছিলাম, আব্বু এই গিফট টা এনে দিছে। আপনি এটা বাসায় গিয়ে খুলবেন কিন্তু”
-আচ্ছা, ঠিক আছে। কিন্তু আমি তো বার্থডে ট্রিট দেই নাই।
-লাগবে না ট্রিট আমার।

বাসায় যাবার আগেই অবশ্য বক্সটা খুলে ফেলেছিলাম, দেখি একটা হাতঘড়ি। ঘড়িটা হাতে পরে নিয়েই বক্সটা রাস্তার একপাশে ফেলে দিলাম। পরে আবার কি মনে করে বক্সটা কুড়িয়ে নিলাম। একটু দূরেই দেখি নিতুর ছোট ভাই, ওকে ডেকে নিয়ে দোকান থেকে এক বক্স আইসক্রিম নিয়ে দিলাম যাতে বাসায় গিয়ে সবাই মিলে খায়। সন্ধ্যার ব্যাস্ত সড়কের পাশ ঘেষে সোডিয়াম বাতির আলোতে একা একা হাঁটছিলাম, অবশ্য বেশ কিছু বাতি এলইডি বাতিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। হলুদ আর ফকফকা সাদা আলোর মিশেলে কেমন বিদঘুটে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কিছুদূর যেতে না যেতেই স্কুলের বন্ধু অনিকের ফোন।
-হ্যাঁ সানি, কই আছিস তুই?
-আমি ইপিজেড এর কাছাকাছি।
-আমি আর সিফাত হসপিটাল গেট আছি, চলে আয়।
-ওকে দোস্ত।
অনিক সিলেট থেকে এসেছে গত পরশু, এমনিতেই দেখা করার প্লান ছিল। তার উপর আজ আবার আমার জন্মদিন, একেবারে ছোটখাটো খানাপিনার আয়োজন হয়ে গেলে মন্দ হয়না। এই ভেবে আমি অনিক আর স্কুলের আরেক বন্ধু সিফাত একত্রিত হলাম হাসপাতাল গেট এলাকায়। সেই চিরচেনা শহর,স্কুল-কলেজ জীবনের ফেলে আসা স্মৃতি রোমন্থন, বন্ধু-আড্ডা-গল্প আর খানাপিনায় কেটে গেলো সময়।
>>>>>>>>>>>>>>>

পরীক্ষার আগের দিন যত বড় সিলেবাসই হোক না কেন, প্রকৌশলীদের জন্যে তা পান্তা ভাত। এই ভেবেই পুরো সেমিস্টার জুড়ে সব পড়া জমিয়ে রাখে এরা পরীক্ষার আগের দিনটাতে পড়বে বলে। অবশ্য এছাড়াও আরো দু-শ্রেণীর প্রকৌশলী দেখতে পাওয়া যায়। একদল সেমিস্টারের শুরু থেকেই খুব সিরিয়াস, বাইরে থেকে এমন ভাব নেয় যেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। আরেকদল ভেতরে ভেতরে পড়বে কিন্তু কাউকেই বুঝতে দেবে না, খুব সুন্দরভাবে বিদ্যাসাগর শ্রেণি এবং সাধারণ শ্রেণীর মধ্যে ভাব বজায় রাখবে। নিজেকে অবশ্য আমি কখনো কোন শ্রেণীতে আবদ্ধ রাখিনি, যখন যেটা ভাল লেগেছে উচিত মনে হলে সেটাই করেছি। এই সেমিস্টারে অবশ্য পড়ালেখায় হালকা মন দিয়েছি যদিও আমার মন দেয়া না দেয়া সব ওই পরীক্ষার আগের কদিনের উপরই নির্ভরশীল।

সেই মাহেন্দ্রক্ষণ অতি সন্নিকটে বলা চলে, একে একে ল্যাব ফাইনালগুলো শেষ হতে চলেছে। ইংরেজির শুকলা ম্যামের ক্লাস করেছি আমরা বিগত দু-সেমিস্টার ধরে, এরপর আর কোন ক্লাস নেই উনার। তাই ক্লাসে আমরা জানিয়েছিলাম শেষ ক্লাসে আমরা ক্লাস পার্টি করব সবাই মিলে। যেই ভাবা সেই কাজ, সকলের সম্মিলিত আয়োজনে ২০৩ নম্বর কক্ষটিকে আমরা খুব সুন্দরভাবে সাজালাম। রঙ বেরঙের বেলুন, কনফেত্তি আর সাজ সাজ আয়োজন বিরাজ করছিল এই ২০৩ নম্বর কক্ষে। আগে থেকেই আমরা চাঁদা তুলে বিশাল কেক আর নাস্তার অর্ডার করে রেখেছিলাম, ম্যাম ক্লাসে ঢুকেই খুব সুন্দর করে গুছিয়ে আমাদের উদ্দেশ্যে কথা বললেন। একে একে আমাদের দিয়ে পারফর্ম করালেন কবিতা, গান, কৌতুক, অভিনয়, নাচ… ইত্যাদি। সেদিন স্কুলের ফেলে আসা দিনগুলির কথা মনে পড়ে গিয়েছিল খুব করে। সবশেষে আমরা সবাই মিলে কেক কাটলাম, নাস্তা আর ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে প্রথম বর্ষের ক্লাস পার্টি শেষ করলাম।

<<<<আগের পর্ব    পরের পর্ব>>>>

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০

স্নাতকের দিনগুলির ষোলআনা - পর্ব ২৩

 

গ্রামোফোন রেকর্ড যা কিনা কলের গান নামেই পরিচিত, মাঝেমধ্যে এমন কিছু মানুষের সাথে সাক্ষাত হয়ে যায় যাদেরকে সেই গ্রামোফোনের সাথে তুলনা করলে মোটেই ভুল হবেনা। অবশ্য সব গ্রামোফোনই কিন্তু বিরক্তিকর নয়, কিছু কিছু গ্রামোফোন আপনাকে শিল্পীদের গান শোনাবে আর কিছু গ্রামোফোন তার নিজের ফিচার-এপ্লিকেশন বর্ণনা করবে, সেই ফিচার-এপ্লিকেশনগুলো শুনে শুনে আপনি অবাক হবেন আর মনে মনে বলবেন- “Wow, how genus Edison was who invented this machine”

বাগদাদ ইলেকট্রনিক্স মার্কেটের বাইরে রাস্তার পাশের সিঁড়িতে বসে কেউ একজন খুব মনযোগ দিয়ে মোবাইল টিপছে। ছাই রঙা টিশার্ট, কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, লিকলিকে শরীর, রোদে পুড়ে পুড়ে চেহারাটা কালচে-বাদামী হয়ে গেছে। পরিচিত মনে হওয়াতে কাছে যেতেই চিনতে পারলাম, আরেও এ-তো ওই ছেলেটা কি নাম যেন- রাজা না রাজু ? এই আমার এক সমস্যা, মানুষের চেহারা মনে থাকে কিন্তু নাম মনে থাকেনা। পকেট থেকে মোবাইল বের করে ফেসবুকে হালকা খোঁজাখোজি করেই পেয়ে গেলাম, এইতো “রাজিত”। ক্যাম্পাসে এই রাজিত শব্দটা প্রায় সবার মুখে মুখে, কারণ ড্রোন নিয়ে ওর সবচেয়ে বেশি মাতামাতি। এইতো কদিন আগেই ওদের একটি গ্রুপ “টিম অন্তহীন”  এর F-22 Raptor প্লেন ডিজাইন করে উড়ানোর ভিডিও দেখলাম। কাছে যেতেই দেখি মোবাইলে গেমস খেলছে। কি গেম ওটা পরে অবশ্য জানতে পেরেছিলাম Clash of Clans, যেটা কিনা COC নামেই বেশি পরিচিত ছিল। বেচারাকে আর ডিস্টার্ব না করে আমি মার্কেটের ভেতরেই চলে গেলাম, কিন্তু ভেতরে গিয়ে বেশ খানিক্ষণ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য খুঁজতে খুঁজতেই ওর সামনাসামনি পড়ে গেলাম।

-রাজিত ভাই, কি অবস্থা?

-এইতো ভালো, তোমাকে চিনলাম না।

-আমি সানি, সেকেন্ড সেমিস্টার ভাই।

-আচ্ছা, তুমি IUT তে গেছ যে ওই টিমের নাকি?

-জ্বি ভাই, আপনাদের F-22 Raptor এর ভিডিও দেখলাম, জোস হইছে ভাই।  

-হ্যাঁ, আর বইলো না। যা প্যারা খাইছি, ঠিকঠাক উঠছিল না কোনমতেই।

-হ্যাঁ, দেখলাম। ইন্সট্রুমেন্ট তো অনেক খরচ না ভাই?

-আরে Passion থাকলে টাকা-পয়সা কোন ব্যাপার না। যেখান থেকেই হোক জোগাড় হয়ে যাবে, অবশ্য আমাদের কিছুটা স্পন্সর করছিল মুন্না স্যার।

-ভাই আমাদের কিছু শেখান না।

-আরেহ, এগুলা তো সব ইন্টারনেট এ পাওয়া যায়, বাসায় কি ওয়াইফাই নাই?

এরপর থেকে গ্রামোফোনের সেই রেকর্ড শুরু, এই রেকর্ড আমি বারে বারে শুনে গেছি যতবারই উনার সাথে দেখা হইছে। প্রথম প্রথম একটু বিরক্ত লাগতো, কিন্তু পরে গিয়ে আবিষ্কার করলাম উনার কথাবার্তার টোন-ফ্রিকোয়েন্সি একই থাকলেও কথাগুলো তথ্যবহুল হয়। নতুন কিছু না কিছু টেকনোলজি বা ট্রিক্স শেখা যায়। সে যাই হোক, উনার সাথে কথা বলে কিছুটা হতাশ আবার মোটিভেটেডও হলাম বটে। হতাশ হওয়ার কারণ ছিল আমার বাসায় ওয়াইফাই নাই, আর মোটিভেটেড হওয়াটা হচ্ছে উনার এক্সপ্রেশন দেখে। আজকের দিনটাই যে শুরু হয়েছিল মুন্না স্যারের ঝাড়ি দিয়ে, সে দিক দিয়ে অবশ্য দিনশেষে এই মিশ্র অনুভূতিটাই যথেষ্ঠ।

সকালেই মুন্না স্যার অফিসে আমাকে আর রাশেদকে ডেকেছিলেন রোবোটিক্স ক্লাবের ওয়ার্কশপে রেজিস্ট্রেশন করা ছাত্রছাত্রীদের আইডি কার্ড প্রিন্ট করে আনার জন্যে। স্যার নিজেই ডিজাইন করে রেখেছিলেন আইডি কার্ড, সফটওয়্যার টা দেখলাম…নাম “ইলাস্ট্রেটর”…মনে মনে সংকল্প করলাম, এই সফটওয়্যার এর কাজ শিখতে হবে। একটা পেনড্রাইভ এ করে স্যার সফট কপি  দিলেন আমাকে আর বললেন-“জিইসি মোড় যাবা, ফুজি স্টুডিও। B4 সাইজ বলবা, ওরা ঠিকঠাক প্রিন্ট করে লেমিনেটিং করে দেবে।”

স্যারের কাছ থেকে পেনড্রাইভ নিয়ে আর আমি আর রাশেদ জিইসি মোড় এর দিকে রওনা দিলাম। জিইসি যেতে যেতেই মুন্না স্যার কি বলেছিল সব ভুলে গেলাম, সাথে থাকা রাশেদকে জিজ্ঞাস করলাম…

-“বন্ধু, স্যার কোত্থেকে প্রিন্ট করতে বলছিল যেন?”

-“সেন্ট্রাল প্লাজার নিচে দেখ, কম্পিউটারের দোকান আছে। ওখান থেকে মানাই নিয়ে গেলেই হবে”

-“আচ্ছা, ঠিক আছে চল।”

গেলাম সেন্ট্রাল প্লাজার নিচের কিছু স্টেশনারির দোকানে। একটা কম্পিউটারের দোকান দেখে ঢুকে পড়লাম দুজন, অপারেটরকে পেনড্রাইভ দিতেই সফট কপি চেক করে ৪০ পিছ আইডি কার্ডের জন্যে ৫০০ টাকা চাইলো, দরদাম করে আমরা ৩০০ তে নামালাম। চার-পাঁচ পিছ প্রিন্ট হতে না হতেই মুন্না স্যারের ফোন…

-“কি অবস্থা তোমাদের? প্রিন্ট করছ?”

-“স্যার, একটা কম্পিউটার এর দোকানে আসছি। চল্লিশ পিছ তিনশত টাকা।”

-“এ, তোদেরকে ওখানে কে যাইতে বলছে? প্রিন্ট কিসে দিছস, ফটো পেপারে?”

-“জি স্যার, একটা ফটো পেপারে তিনটা করে হচ্ছে।”

-“গাধা, কত করে পড়তেছে প্রতি পিছ ?”

-সাড়ে সাত টাকার মতো স্যার।

-আরে বোকা, ফুজি স্টুডিও তে গেলে সাত টাকা দিয়ে প্রতি পিছ পাইতি। বন্ধ করতে বল প্রিন্ট, যেদ্দুর হইছে অইগুলার টাকা দিয়ে এখন বাইর হ।

ফোনের ওপাশ থেকে স্যারের বকাবকি শুনে ৬ খানা আইডি কার্ডের টাকা দিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে এলাম। এরপর একটু হেঁটে সামনে যেতেই দেখলাম সবুজ সাইনবোর্ডে বড় বড় করে লেখা “Fuji Color Lab”, কিন্তু স্যারের সেই ফুজি স্টুডিও কোথায়? স্যারের ঝাড়ি খাবার পর এখন দুচোখে কেবল সরষে ফুল দেখছি। দোকানটা দু-তিনবার ঘুরে ফিরে দেখলাম, এরপর ভেতরে ঢুকে দোকানীকে জিজ্ঞেস করলাম-“ভাই, এটাই কি ফুজি স্টুডিও?”। দোকানীর হ্যাঁ শুনে কলজেতে পানি আসল, তাড়াতাড়ি পেনড্রাইভ বের করে বললাম B4 সাইজের কার্ড প্রিন্ট করবেন, লেমিনেটিং সহ দরদাম করলাম পনের টাকা করে প্রতি পিছ। এরপর দিয়ে চলে এলাম ক্যাম্পাসে, দু-ঘন্টা পর গিয়ে নিয়ে আসতে হবে।

ক্যাম্পাসে এসেই মুন্না স্যার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছিলাম, আইডি কার্ডগুলা হাতে হাতে পৌঁছে না দিলে পরে আরো কতো কথা শুনতে হয় আবার। এদিকে আবার ইকোনোমিক্স মিড এক্সাম থাকায় আমি আর রাশেদ ছুটলাম পাঁচ তলায়। গিয়ে দেখি সবাই পেছন দিক থেকে সুন্দরভাবে বসে গেছে, সামনে সারিটাই কেবল খালি। আমরা দুজন পাশের রুম থেকে এক্সট্রা চেয়ার নিয়ে এসে পিছনে গিয়ে দুরত্ব রেখে বসে পড়লাম। ম্যাম আসতে না আসতেই চোখ পড়ল আমাদের উপর-“পেছনে যারা আছো সামনে চলে এসো”। মনে অনেক দুঃখ নিয়ে আস্তে আস্তে সামনে এগুলাম, গিয়ে বসতেই পেছন থেকে সাদ ভাইকে ডেকে আমার এক চেয়ার পাশে বসিয়ে দিলেন। ডানপাশে রাশেদ, বাঁপাশে সাদ ভাই আর মাঝখানে আমি। কোনাকুনি পেছনে তাকালে অবশ্য গাজী ভাইয়ের খাতা দেখা যাচ্ছিল, নাই মামার থেকেও কানা মামা ভালো-মনে মনে নিজেকে এই ভরসা দিলাম। 

এক্সাম শুরু হতে না হতেই সাদ ভাইয়ের ডাকাডাকি বেড়ে গেল-“অই, দেখা দেখা…কি লিখসস দেখা।” দুটো প্রশ্নের মধ্যে একটা প্রশ্নই কমন ছিল, চাহিদা রেখা … যোগান রেখা এইসব নিয়ে। অন্য প্রশ্নের কিছুটাও যদি এদিক ওদিক থেকে লিখে নিতে পারি তো হবে… এই চিন্তায় পেছনে তাকিয়ে গাজী ভাইয়ের খাতা দেখার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু উনার লেখার সাইজ যে ন্যানোস্কেলের তা জানা ছিল না। মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখলেও এই লেখা বোঝা যাবে না বোধ হয়, কি আজব পাবলিক ! এদিকে রাশেদও আমাকে সমানে ডাকছে-“বন্ধু দেখা দেখা।” পেছনে দেখতে গিয়ে ম্যামের বকাও খেলাম। শেষমেশ নিজে যা পারি তাই পুরোদমেই লিখা শুরু করলাম, প্লান ছিল যা পারব লিখে জাস্ট খাতা জমা দিয়ে বেরিয়ে যাব। তাড়াতাড়ি ১০ মার্কের আন্সার করে খাতা জমা দিয়ে বেরিয়ে এলাম… বিশের মধ্যে দশ পেলেও হবে, ফাইনালটা ভাল করে দেব ক্ষণ।

আমার এমন একগুঁয়েমি দেখে বন্ধু রাশেদ রাগে গিজগিজ করছিল, ম্যাম না থাকলে বোধ হয় মেরেই দিতো আমাকে…চলে আসার সময় তো বলেই বসল-“আধা পরাইন্নের ডুইল্লে কা গরর? এক্কানা দেখাইলে কি ক্ষতি হই যাইবু নে?”

-“মাথা ঠিক নাই বন্ধু, আইডি কার্ড গুলা স্যারের হাতে জমা দেয়ার আগ পর্যন্ত…”

এক্সাম শেষ করেই জিইসি গিয়ে আইডি কার্ডগুলো নিয়ে এলাম, আমি আর রাশেদ ভয়ে ভয়ে ঢুকলাম টিচার্স কমন রুমে…

-স্যার এইযে আইডি কার্ড গুলা।

-বাহ, সুন্দর হইছে তো। দেখছ…স্টুডিওর কাজ আর তোমার কম্পিউটার এর দোকানের কাজের তফাত?

-জি স্যার, মাথা নিচু করে রইলাম আমরা দুজন।

-টোটন স্যার, দেখেনতো কেমন হইছে…ভাল না?

-স্যার এই কার্ডগুলা কি করব…কম্পিউটার এর দোকানে যেগুলা অতিরিক্ত প্রিন্ট করে ফেলছি।

-গলায় ঝুলাই পুরা ক্যাম্পাস ঘোর। 

<<< আগের পর্ব     পরের পর্ব >>>>>

শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২০

স্নাতকের দিনগুলির ষোলআনা - পর্ব ২২

ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনে বিজয়ের রেশ বেশ ক’টা দিন ছিল সবার মুখে মুখে। সময় গড়াতে না গড়াতেই আবারো নিত্যদিনকার ব্যাস্ততায় সকলেই ব্যস্ত হয়ে পড়ি। এদিকে কদিন ধরে মাথা ব্যাথাটা খুব বেড়েছে, মাথার একপাশটা এমন ব্যাথা করে ইচ্ছে করে ঐ পাশটা কেটে ফেলি। মাইগ্রেনের ব্যাথা হবে হয়তো, কপালের একপাশে শিরা-উপশিরাগুলো চেপে ধরলে হালকা প্রশান্তি মেলে, ছেড়ে দিলে আবার সেই আগের মতো। বরাবরের মতোই কাপের পর কাপ চা খেতে খেতে যাচ্ছেতাই অবস্থা, আম্মু চা বানাতে বানাতে বিরক্ত হয়ে বললেন…

-“কাল গিয়ে ডাক্তার দেখা, সকাল বিকাল দুই কাপ ছাড়া আর চা বানাইতে পারব না। নিজে বানাই নিজে খা”

-“ও আচ্ছা, চা বানাইতেই তোমার যতো বিরক্তি, থাক আর চা বানাইতে হবে না। আমি বানাইলে আরো কড়া করে বানাইতে পারি।”

সকাল সকাল গেলুম চট্রগ্রাম মেডিকেলের মেডিসিন বহির্বিভাগ। দশ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে সিরিয়াল নিয়ে অপেক্ষা করছি, কখন ডাক পড়বে। কয়েকজন যেতে না যেতেই আমার ডাক পড়ল, ডান হাতটা মাথার একপাশে চেপে ধরে ডাক্তারের রুমে ঢুকলাম।

-বসেন, কি সমস্যা?

-মাথাব্যাথা, এতোটাই ব্যাথা যে কিছুতেই কমছে না। মাথার একপাশটা পুরো কেটে ফেলতে ইচ্ছে করছে।

-ক’দিন ধরে মাথাব্যাথা?

-এইতো, দু-তিনদিন।

-কোন ওষুধ খাইছিলেন?

-প্রথম দুদিন কোন ওষুধ খাই নি। গতকাল একটা সেরিডন খেলাম, তাও যাচ্ছে না।

-ওষুধ লিখে দিচ্ছি, দিনে দুটো করে তিনদিন খাবেন, চলে যাবে ইনশা-আল্লাহ।

আমি অবশ্য একটা ওষুধেই সন্তুষ্ঠ হচ্ছিলাম না। না পারতে প্রেসকিপশন হাতে নিয়ে বেরোতে বেরোতে মনে মনে ডাক্তারকে গালমন্দ করছিলাম। বাইরে মেডিকেল শপ থেকে ওষুধ নিয়ে ক্যাম্পাসে চলে এলাম। আজকের প্রথম ক্লাসটাই ইকোনোমিক্স, রাশেদের প্ররোচনায় পড়ে দু-একখানা কোর্স অতিরিক্ত নেয়ার ফল যেমনটা হয় আরকি। ইমিডিয়েট সিনিয়রদের সাথে ক্লাস করাটা তেমন সুখকর নয়। যদিও আমরা দুজন এমন ভাব নিয়ে ক্লাসে ঢুকতাম আর রিকোর্স নেয়া ভাইদের সাথে গিয়ে বসতাম, যেন আমরাও ওদের সিনিয়র। আন্দোলনে পড়ে বেশ কিছু ক্লাস পিছিয়ে পড়েছি আমরা, তার উপর ১০-১৫ জনের ছোট্ট একটা ক্লাস। বলতে না বলতেই ম্যাডামের প্রবেশ…

-“Good Morning, কেমন আছেন আপনারা সবাই? আলাউদ্দিন সাহেব, কি খবর আপনার”

-“জ্বি ম্যাম, ভাল। আপনি কেমন আছেন?”

-“আমিতো আছি ভালই। তা মিছিল কেমন করলেন আপনারা?”

-“সেরা ম্যাম, সেরা।”

-“এবার একটু লেখাপড়ায় মন দেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই তো মিডটার্ম।”

অর্থনীতির এই ম্যামটা খুব মজার মানুষ, ভার্সিটির ইকোনোমিক্স ডিপার্টমেন্টের ফ্যাকাল্টি। সপ্তাহে দুটো ক্লাস নিতে আসেন আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি তে। যাদের সাথে ক্লাস করছি তারা থার্ড সেমিস্টার, ফল সেশনের ক্লাস বলে হাতে গোনা মাত্র জনা বিশেক ছাত্রছাত্রী। এদের শ্রেণী প্রতিনিধি হচ্ছে আলাউদ্দিন, কেউ কেউ আবার রোমেল নামেও ডাকে। খুব হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত এই আলাউদ্দিন ছেলেটা, প্রায় সময়ই পাঞ্জাবী পড়ে ক্লাসে আসে। প্রথম কয়েকদিন এদের সাথে একটু দুরত্ব থাকলেও পরবর্তীতে অবশ্য সেটা অনেকটা কেটে যায়। বিশেষ করে আলমগীর ভাই আর গাজী ভাইকে তো ভুলতেই পারিনা, শেষ বর্ষের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুরে এদেরই যে রুমমেট ছিলাম। সে যাই হোক, পেছনের দিকে বসে ক্লাস করতে করতেই আরেক সিনিয়র ভাইয়ের পেছন থেকে ডাকাডাকি…

-এই তোমার থেকে কলম আছে?

-এই নেন ভাই।

-আচ্ছা, আগের ক্লাসে কি পড়াইছে দেখি তো খাতাটা।

-আমি তো তেমন একটা ক্লাস করি নাই ভাই, আলাউদ্দিন কে জিজ্ঞাস করে দেখেন।

পেছনের ভাইটি আর কেউ নয়, ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ “সাদ ভাই”। অনেক সিনিয়রদেরও সিনিয়র, পাশ করে বের হবার জন্যে রীতিমতো সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। কথায় আছে অভাগা যেদিকে যায় সাগর শুকিয়ে যায়, এমনিতেই সকাল থেকে মাথা ব্যাথা করছে তার মধ্যে এই সাদ ভাইয়ের পাল্লায় পড়ে ম্যামের চোখে পড়ে গেলাম।

-এই you, Stand Up.

মাথা নিচু করে উঠে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আমি, এরই মধ্যেই …

-আপনি না, আপনার পিছের জন। মাথা নিচু করে আছেন কেন আপনি?

-ও, ম্যাম আমি? না মানে…আমি এমনে লিখতেছিলাম যে।

-কই দেখান তো আপনার খাতা।

-না মানে খাতা নাই, পৃষ্টায় লিখতেছিলাম…পৃষ্ঠাটা নিচে পড়ে গেছে, ম্যাম।   

-দেখি বলেন তো কি পড়াচ্ছিলাম?

একগাল হাসি দিয়ে সাদ ভাই বলার চেষ্টা করছিলেন আর আশে পাশে সামনে যাকে পাচ্ছিলেন খোঁচাচ্ছিলেন যাতে আমরা তাকে টপিক্সটা বলে দেই। আমি ফিসফিস করে বললাম “Monopoly Market” আর সাদ ভাই কি না কি শুনলেন , ফট করে উত্তর দিয়ে বসলেন।

-“মনপুরা মার্কেট পড়াচ্ছিলেন ম্যাডাম।“

সাদ ভাইয়ের উত্তর শুনে পুরো ক্লাস অট্টহাসি-তে ভরে গেল। ম্যামসহ ক্লাসের প্রায় সবাই মিলে আমরা বেশ কিছুক্ষণ হাসলাম, মজার ব্যাপার হচ্ছে সাদ ভাই নিজেও হাসছিলেন। সাদ ভাইয়ের সরলপনা দেখে ম্যাম আর বকতে পারলেন না, মুখে হাসি নিয়েই বোর্ডে মিডের সিলেবাস লিখতে থাকলেন।

সেদিনের মতো ক্লাস শেষ করে সাত তলা থেকে দৌড়াতে দৌড়াতে নামলাম দোতলায়। রাশেদ আর আমি মিলে মুন্না স্যারের সাথে পরামর্শ করে ঠিক করেছি রোবোটিক্স ক্লাব থেকে এখন একটা ওয়ার্কশপ আয়োজন করলে ভালো হয়। এই বিষয়টা ক্লাসে জানিয়ে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছিও বটে, প্রায় জনা ত্রিশেক এর মতো ছাত্রছাত্রী কর্মশালায় রেজিস্ট্রেশন করেছে। রেজিস্ট্রেশন ফি থাকায় প্রথম দিকে আমাদের চিন্তা হচ্ছিল আদৌ ছেলেপিলে রেজিস্ট্রেশন করবে কিনা। মোটামুটি হাজার তিনেকের মতো টাকা জমা পড়েছে যার পুরোটাই গচ্ছিত রাখলাম মিশনের কাছে।  

>>>>>>>>>>>>>>> 

আজ বৃহস্পতিবার, ক্লাস নাই। ডাক্তারের ওষুধ তিনদিন খেয়েই মাথাব্যাথা পুরোপুরি সেরে গেছে, আলহামদুলিল্লাহ। আর তাই আম্মু সকাল থেকেই সমানে ববকি করছেন। বিদ্যুতের বিল নাকি গত কয়েক মাস ধরে অনেক বেশি বেশি দিচ্ছে, আর আমি ইলেকট্রিক্যাল এর স্টুডেন্ট হয়েও বাসায় পড়ে পড়ে ঘুমুচ্ছি। এই ছিল বকাবকির কারণ। পরটা আর চা কোনরকমে গিলে উঠেই আগের পাচ-ছয় মাসের বিদ্যুতের বিলের কাগজ সব খুঁজে বের করলাম। এরপর একটা হিসেব করে দেখলাম, আগে যেখানে প্রতি মাসে দেড়-দুশ ইউনিট করে বিল আসত গত দু-মাস ধরে সেখানে আসছে তিনশ ইউনিট করে। উঠে বিদ্যুতের মিটারের রিডিং চেক করলাম, মিটারের বর্তমান রিডিং এর চেয়ে বিলের কাগজের রিডিং অনেক এগিয়ে। আজব তো ! এ কি করে সম্ভব? তৎক্ষণাৎ মিটারের রিডিং সমেত একটা ছবি তুলে নিলাম আর মিটারের সব কাগজ গুছিয়ে নিলাম, আজ এর একটা বিহীত করতেই হবে।

বন্দরটিলা ওয়ার্ড অফিসের বিপরীতের রাস্তা ধরে একদম শেষে নেভীর ঘাঁটির সাথেই স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ। আম্মুর কাছে শুনেছি এই অফিস নাকি আগে প্রধান সড়কের পাশে টিসিবি ভবনের সাথেই ছিল। লাইনের কোন জটিলতায় টানা দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না এলে পরে লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে এই বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করত। এখন এরা নেভীর সুরক্ষায় এসে গেছে, তাই চাইলেও কেউ কিচ্ছুটি বলতে পারে না আর ভেতরে বসে বসে ঘোর অনিয়ম ঘটিয়ে যাচ্ছে। খবর নিয়ে জানতে পেরেছি আমাদের পতেঙ্গা-টু ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের দায়িত্বে আছেন সাব-এসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিদ্যুৎ বড়ুয়া।   

-ভাই, আপনি কি বিদ্যুৎ ?

-হ্যাঁ, আমি বিদ্যুৎ। হাসতেছেন কেন, মানুষের নাম কি বিদ্যুৎ হইতে পারে না?

-না হইতে তো পারে। আমি চিন্তা করতেছি আপনি সিংগেল ফেজ না ত্রি ফেজ ?

-মানে? কি বলতে চান আপনি?

-পতেঙ্গা-টু ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের আমরা, গত দুমাস ধরে বিল অনেক বেশি বেশি আসছে।

-আচ্ছা, বসেন। আপনার বাসায় কি কি চালান? নতুন টিভি, ফ্রিজ, মোটর আনছেন মনে হয়?

-আরেহ ভাই সব লোড আগের মতোই। টিভি ১৫০, ফ্যান ৩ টা ৮০ ওয়াট করে, ফ্রিজ ২০০ ওয়াট আর এনার্জি বাল্ব চারটা মিলে সর্বোচ্চ ১২০ ওয়াট ।

-মোটর মোটর? মোটর কত বিদ্যুৎ খায় জানেন? পানির মোটর কয় ঘোড়া?

-ঘোড়া কই পাইলেন আবার ?

-আরেহ ঘোড়া বুঝলেন না, ঘোড়া মানে মোটর ক্ষেমতা আরকি?

-ও আচ্ছা, হর্স পাউয়ার এ-না বলবেন।  মোটর 1HP, মানে ৭৪৬ ওয়াট।

-তো এবার হিসাব করেন, কতো আসে?

-আরে ভাই আমি ইলেকট্রিক্যাল এর স্টুডেন্ট, এইখানে হিসাব করতে আসি নাই।  

-তো আমরা কি পড়ালেখা না করেই আসছি নাকি এখানে?

-সেকথা কবে বললাম? একটু মাথা ঠান্ডা করে ছবিটা দেখেন, ছবিতে মিটারের রিডিং আজকে তোলা ১১ হাজার সাতানব্বই, আর এই মাসের বিলের কাগজ দেখেন ১১ হাজার ছয়শ সাতানব্বই। আমার মিটার রিডিং না দেখেই বিল দিচ্ছেন আপনারা।

-ও আচ্ছা আচ্ছা, এটা না বলবেন।

-আপনি আমাকে বলতে দিলেন কই ? এখন কি করব ওইটা বলেন।

-নিচে গিয়ে বিলের ফটোকপি জমা দিয়ে আসেন, ঠিক হয়ে যাবে পরের মাস থেকে। চা খাবেন?

-আরেহ না না, আরেকবার আসলে খাব।

পাশে বসা আরেকজন বয়স্ক ভদ্রলোক আমাদের লক্ষ্য করে বললেন…

-বিদ্যুৎ, এখনো সিংগেল ফেজেই রয়ে গেলা, একটা ক্যাপাসিটর লাগাইয়া নাও…ডাবল ফেজটুকু যদিও হতে অন্তত পারো।

<<<<আগের পর্ব      পরের পর্ব>>>>

স্নাতকের দিনগুলোর ষোলআনা - পর্ব ৪২

  মাইক্রোকন্ট্রোলার নিয়ে নুব লেভেলে কাজ করতে গেলে আর্ডিনোর বিকল্প হয়না , আর চারিদিকেও এই আর্ডিনোর জয়জয়কার চলছে। ক্যাম্পাস থেকে ফেরার পথে ফেম...