শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১

স্নাতকের দিনগুলির ষোলআনা - পর্ব ৩৩

 

সোহেল হত্যার ঘটনা দেশব্যাপী নিউজ মিডিয়া আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুরোদমে প্রচার হতে লাগল, এই নিউজটা এতো বেশি ভাইরাল হয়েছে যে পরিচিতজনদের জনে জনে বলতে হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টিতে মারামারি হয়নি, হয়েছে বিজনেস ফ্যাকাল্টিতে...দুটা বিল্ডিং দুই জাগায়। নিঃসন্দেহে এই ঘটনা আমাদের পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর কালিমা লেপন করেছে, আর একজন ছাত্র হিসেবে আমি নিজেও খুব লজ্জিত।  সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে যাতে দেখা যাচ্ছে ক্লাসের বারান্দায় ভীড়ের মধ্যে একজন ছাত্র আরেকজনকে নৃশংসভাবে কোপাচ্ছে। এইসব ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীরা বই-খাতা-কলমের স্থলে কিভাবে যে ছুরি-চাকু নিয়ে ক্যাম্পাসে আসে ভাবতেই গা শিওরে উঠে। আম্মু টিভিতে নিউজ দেখেই বকাঝকা শুরু করলেন…  

-       তোরে কইলাম আই, এডে ভর্তি ন অইবের লাই। আ-হা-হা-হা কন মা’র বুক খালি গরি দিল অমাইনষের পোয়া-অক্কল।

-       আম্মু এইটা ওয়াসা ক্যাম্পাসে, আমাদেরটায় কোন রাজনীতি হয় না। 

বিভিন্ন সময় বারে বারে আমাদের প্রকৌশল অনুষদেও ছাত্ররাজনীতি শুরু করার প্রচেষ্টা চলেছিল, কিন্তু আমাদের অনুষদের প্রক্টর ও সিনিয়র ফ্যাকাল্টিদের দৃঢ় মনোভাবের কারণে কখনোই এই অনুষদে ছাত্ররাজনীতি ঢুকতে পারেনি,এমনকি অনুষদের বিভিন্ন ক্লাবগুলোকেও কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। প্রক্টর স্যারের ভাষায়… 

-       পলিটিক্স যা করবা ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে কর, পার্সোনালি কর। এই ক্যাম্পাসে কোন সক্রিয় রাজনীতি চলবে না এবং এর অনুমোদনও আমরা দেবো না।  

পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, টিভি নিউজে জানতে পারলাম হত্যাকারী ও তার সহযোগীরা সবাই পলাতক, বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন কে কেন্দ্র করে একই ছাত্রসংগঠনের দুটি গ্রুপের অন্তর্কোন্দল বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাতে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারলাম, দুপুরের পরপরই প্রশাসনিক ভবনের সামনে সোহেল এর বন্ধুরা গণ্ডগোল করেছে আর ভাঙচুর চালিয়েছে, আর এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের গেইট বন্ধ করে রাখা হয় যাতে অনেক ছাত্রছাত্রীই ভেতরে আটকা পড়ে যায়। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যে ছাত্ররাজনীতি যে কতটা ভয়ংকর তা আগে পত্রিকা আর টিভিতে দেখে আসলেও আজকে একরকম সামনে থেকেই উপলব্ধি করলাম। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের মধ্যেও যে এত এত গ্রুপিং থাকতে পারে আর এরাই নিজেদের মধ্যে আবার মারামারি করে এই বিষয়ে চবির এক রাজনীতি করা বন্ধুকে প্রশ্নই করে বসেছিলাম

-       আচ্ছা, এই যে তোরা বগি নিয়ে রাজনীতি করিস, আবার নিজের দলের লোকেদের মধ্যেই অমুক সমর্থক গ্রুপ তমুক সমর্থক গ্রুপ… এরকম কেন? 

-       আরে বন্ধু, বুঝবি না। এভাবে নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং করলে কাজ দ্রুত হয়, আবার নির্বাচন কিংবা বড় কোন উপলক্ষ্যে আবার সবাই এক হয়ে যাই। 

-       আচ্ছা বুঝলাম, সামান্য একটা রেলগাড়িই তো এইটার বগি নিয়ে মারামারি করার কি আছে?  

-       বগি রাজনীতি চবিতে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে, জীবনেও বন্ধ হবেনা। 

-       আচ্ছা বগির কথা বাদ দে, দুই গ্রুপের মধ্যে প্রতিযোগীতাও মেনে নিলাম, একজন আরেকজনরে খুন করছ কেমনে? কুখ্যাত সেই শিবির ফিল্ডে নাই বলে কি তাদের মত আচরণ শুরু করবি? 

-       আরে আমি করছি নাকি খুন খারাবি?

-       তুই না করলেও তোর দলের বড় ভাই তো করছে, নাকি?  

-       স্পেড-কে স্পেড বলার স্বভাবটা তোর আর গেল না।  

অন্য কোন নেতা হলে এতক্ষণে আমি শেষ, আর বন্ধু আমার মুচকি হাসছে আর চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিল। আজকের এই ঘটনায় আমার সেই বন্ধুর কথা খুব মনে পড়ে গেল। অনির্দিষ্টকালীন ছুটি কাটানোর কোন অভিজ্ঞতা ছিলনা আগে, পরিস্থিতি বিবেচনায় বাইরে কোথায় গেলেই সবার প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছিলাম- “এই, তোমার ক্যাম্পাসে না মার্ডার হইছে?” 

কোচিং, টিউশন আর বাসা এই তিনটি নিয়ে ব্যাস্ত আপাতত, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কোন নামগন্ধ নেই… পরিস্থিতি স্বাভাবিক কবে হবে কোন ঠিক নেই। সন্ধ্যের দিকে জিহাদ ভাইয়ের মেসেজ, আমাদের একটা শর্টফিল্ম  “We art Water” টপ টেন এর মধ্যে আছে। ভোটের জন্য বেশি বেশি শেয়ার করতে হবে। সাথে সাথেই রেজিস্ট্রেশন করে লগিন করে ভোট দিয়ে দিলাম। “সিনে তারুণ্য” নামের একখানা গ্রুপ আছে জিহাদ ভাইয়ের, যারা নিয়মিত শর্টফিল্ম থেকে  শুরু করে বিভিন্ন ডকুমেন্টারী তৈরী করেন। ক্যামেরার পেছনের মানুষগুলো কিভাবে কাজ করে তা জানার আগ্রহ থেকেই জিহাদ ভাইদের সিনেতারুণ্য টিমের সাথে যুক্ত হওয়া। কয়েক মাস আগে পরিচালক জিহাদ ভাই বললেন চট্রগ্রামের বিভিন্ন নদী ও খাল দূষণ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে। চাক্তাই খাল নিয়ে কিছু ডকুমেন্টারি ও গবেষণাপত্র সংগ্রহ করে সারসংক্ষেপ করে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম, এরপর কখনই যে স্ক্রিপ্ট লিখলেন, কখন ভিডিও শ্যুট করলেন আর কখনই বা এই ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এ পাঠিয়ে দিলেন কিছুই জানা ছিল না। যাই হোক, Pollution Cycle নামের তিন মিনিটের এই শর্টফিল্ম এ খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শহুরে জীবনে পানি দূষণের এক চক্র। আমাদের নিজেদের খামখেয়ালিপনায় খালে-বিলে ফেলে দেয়া বর্জ্য নদীর পানি দূষণ করে, আবার সেই পানি বিভিন্ন মাধ্যম হয়ে খাবারের সাথে অসুস্থতা নিয়ে আসে আমাদের ঘরেই যার দায় আমরা মোটেই এড়াতে পারিনা। শর্টফিল্ম এর শেষদিকে জন-ত্রিশেক গুনী মানুষের ভীড়ে কৃতজ্ঞতায় আমার নামখানা দেখতে পেয়ে ভালোই লাগছিল। 


এদিকে অনির্দিষ্টকালীন ছুটি শেষ হবার কোন নামগন্ধ নেই, একদিন টিভি নিউজে দেখলাম অভিযুক্ত বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হলেও অন্যতম আসামী সোহান গা-ঢাকা দিয়েছে। প্রায় সপ্তাহ খানেক বাদে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হয়। বেশ ক’দিন ভার্সিটি বন্ধ থাকার ফলাফলস্বরূপ এবারে ক্লাস আর ল্যাবের প্রেশার বেড়ে যাবে, আর কোর্স টিচাররা ছুটির দিনেও ক্লাস নিয়ে সিলেবাস শেষ করবে। অনির্দিষ্টকালীন ছুটির কারণে মিড এক্সাম পিছিয়েছে, আর মাত্রই ক্যাম্পাস খুলতে না খুলতেই মিড এক্সামের নতুন রুটিন দেয়া হয়েছে...কোর্স টিচাররাও তাই আপাতত পড়িমরি করে মিডের সিলেবাস শেষ করছেন।   এদিকে আবার আগামীকাল বাংলা নববর্ষ। গত বছর জিইসি ক্যাম্পাসে বেশ ঘটা করে নববর্ষ উৎযাপন করা হয়েছিল, এবার তেমন কিছু আয়োজিত হচ্ছে না...থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে প্রতিটা অনুষদে। আমি, নাইম আর সাব্বির আড্ডা দিচ্ছিলাম ক্লাসের ফাঁকে...এর মধ্যেই প্রসেনজিতের আগমন …

-       দোস্ত, চল পহেলা বৈশাখে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যাই।

-       চবি ক্যাম্পাসে যাবি নাকি এখানের চারুকলা ইন্সটিউট যাবি?

-       ক্যাম্পাসেই যাবো, সকাল সকাল বটতলী স্টেশন চলে আসিস।  

“কি পড়ে আসবি সবাই?”... আমরা পাঁচজন চবি ক্যাম্পাসে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর সাব্বির পোশাকের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলল। 

-       কি আর পড়বি? পাঞ্জাবি পিনধিবি দি রি, লগে জিন্স প্যান্ট না হয় পাজামা। - পরিকল্পনাকারী প্রসেনজিত এর সহজ সরল উত্তর। 

-       আচ্ছা, ঠিক আছে। তাহলে সকাল আটটার ট্রেনে দেখা হবে কাল।


 

<আগের পর্ব                             পরের পর্ব>

 

শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১

স্নাতকের দিনগুলির ষোলআনা - পর্ব ৩২

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রতিবাদে দেশব্যাপী হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী আর এদিকে হরতালের মাঝেও প্রায় সব রকমের গাড়ি পুরোদমে চলছে, এমনকি রাস্তায় প্রতিদিনের চেয়ে বেশি যানযট...এ যেন রীতিমতো হরতাল শব্দেরই অপমান। কাস্টমস ব্রীজ ক্রস করার সময় দেখলাম রাস্তার পাশে একটা রাইডার উল্টে আছে, আশেপাশে কেউ নেই। এক সময় এই গাড়িগুলোর নাম ছিল “দুরন্ত”, বয়স বেড়েছে...কলকব্জায় ক্ষয় পড়েছে কিন্তু প্রায় একযুগ পরও এরা নামকরণের সার্থকতা বজায় রেখেছে। কি মনে করে আজ বাসে উঠেছিলুম, নয়তো রাইডারে চড়তেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। 

ক্যাম্পাসে পৌঁছে সকালের ক্লাস শেষ করেই শুনি আজকে সাধারণ ছুটি, ভার্সিটির ক্রিকেট টিম আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেটের ফাইনালে উঠেছে আর তাই ক্রিকেট টিমের সমর্থনে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে চলে যাবো আমরা সবাই। স্টেডিয়াম ক্যাম্পাসের কাছেই , এক রকম হেঁটেই চলে গেলাম বন্ধুরা মিলে। গেট দিয়ে ঢুকে গ্যালারিতে গিয়ে বসলাম আমি, জাহিদ, রিয়াদ, সাব্বির, প্রসেনজিত ও আরো কয়েকজন। সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বনাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ফাইনাল, টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে গ্যালারিতে। পূর্ব গ্যালারি প্রিমিয়ারের ছাত্রছাত্রীদের দখলে, আর পশ্চিম গ্যালারিতে বিরাজ করছে সাউদার্নের ছাত্রছাত্রীদের রাজত্ব। 

-       ওয়াহ, কি ডান্স রে দেখ সানি, ম্যাচ হারলে কি এরা মুখ দেখাইতে পারবো?

-       কই? কে কই নাচে?

-       ওই যে দেখ, মাঠের একপাশে আমাদের ভার্সিটির চিয়ার লিডাররা।  

আইপিএল এর সৌজন্যে চার-ছক্কা কিংবা উইকেট পড়লে একটা ছোট স্টেজে উঠে মেয়েদের নাচানাচি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারই অনুকরণে এখানে মেয়েরা নাচানাচি প্র্যাক্টিস করছে। সম্প্রতি বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ফ্লাস-মব সংস্কৃতি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে, আমাদের ক্যাম্পাসও এর ব্যাতিক্রম ছিল না। ক্যাম্পাসের ওই ফ্ল্যাশ মব দলের ছেলেপিলেরা মাঠের এক পাশে খেলা শুরুর আগেই ফ্ল্যাশ মব করে দেখাল। এই ফ্ল্যাস মব কে আমি অনেকগুলো বানর একসাথে ছাড়া পেলে বিনোদনের জন্য যা যা করে তার সাথেই কেবল মিলাতে পারলুম, অবশ্য বানরের ইহা সহজাত প্রবৃত্তি আর মানুষ এসব অনেক অনুশীলন করে রপ্ত করেছে। অনেক হইহুল্লোর করে ক্রিকেট দলকে উৎসাহ দিয়েও কাজ হয়নি, জাহিদের কথাই শেষমেশ ফলে গেল। ১৩০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রিমিয়ারের একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে, অধিনায়ক পঙ্কজ দাদা শেষ পর্যন্ত লড়ে গেলেও দলের হার ঠেকাতে পারেননি। 


পরদিন ক্যাম্পাসে পৌঁছে তাড়াহুড়ো করে ইলেকট্রনিক্স ল্যাবে ঢুকলাম, দেখি সবাই ল্যাব রিপোর্ট নিয়ে ব্যাস্ত। এক একটা ল্যাবের পর এই রিপোর্ট লিখার জন্যে এক সপ্তাহ সময় পাওয়া যায়, কিন্তু আমরা রেখে দেই বাকিদের থেকে দেখে লিখব বলে। আবার অনেকে রিপোর্টের অধিকাংশ লিখে আনলেও সামান্য কিছু বাকি রেখে দেয় ল্যাবে এসে কমপ্লিট করবে বলে। পাঁচজনের গ্রুপের একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয় এক্সপেরিমেন্ট এর রেজাল্ট প্রিন্ট করে আনবে বলে, কেউবা থাকে ফ্রন্ট পেজ দাতা, আবার কেউবা সাদা অফসেট পেপার, কেউবা স্ট্রাপলিং। এভাবে কাগজ, ফ্রন্ট পেজ, রেজাল্ট এর প্রিন্ট কপি ও স্ট্র্যাপলিং সকলের সমন্বিত প্রয়াসে সম্পন্ন হয় এক একটি ল্যাব রিপোর্ট যা কিনা প্রতিনিয়ত আমাদের টিম-ওয়ার্কের শক্তিকে উদ্দীপ্ত করে। আমার কাজ হচ্ছে ল্যাবে গিয়ে রিপোর্ট লিখা, আমার লিখা শেষ হতে হতে স্যার ল্যাবে চলে আসতেন...এরমধ্যেই প্রায় সবাই রিপোর্ট জমা দিয়ে দিতো, আর আমি ল্যাবের এক কোণে লিখতাম আর লিখতাম । এরপর স্যার এসে প্রস্তুতি নিতে নিতে ওইদিনকার এক্সপেরিমেন্ট বোর্ডে লিখতেন...আর আমি এরই মধ্যে মোটামুটি সব শেষ করে পিন-আপ করে আস্তে করে স্যারের টেবিলে জমা দিয়ে দিতাম। রিপোর্ট জমা করার ক্ষেত্রে যতটা নিচে রাখা যায়- এই নীতি কাজ করতো সবার মধ্যে, কেননা শিক্ষকের মন-মেজাজ খারাপ থাকলে ভুলত্রুটি যা ধরার উপরের গুলোর উপর দিয়ে যেত। তার উপর আবার রিপিট খাওয়ার ভয়ও কাজ করতো। 

এই হচ্ছে আজকের এক্সপেরিমেন্ট এর থিওরি, এইবার তোমরা ইন্সট্রুমেন্ট কালেক্ট করো- এই কথাটা শোনার পরপরই আমি সবার আগে হাজির ইন্সট্রুমেন্ট কালেক্ট করার জন্যে। ল্যাব এসিসট্যান্ট ভাই ইন্সট্রুমেন্ট দেয়ার বেলায় একদম হাড়কিপটে, সামান্য পাঁচ-দশ টাকার রেজিস্টর, ক্যাপাসিটর, ট্রানজিস্টর গুণে গুণে দেয়...তার উপর নাকি কিছু নষ্ট করলেই জরিমানা। ইন্সট্রুমেন্ট নেয়ার পরপরই আমার কাজ হচ্ছে সবকিছু মাল্টিমিটার দিয়ে চেক করে নেয়া, এরপর গ্রুপ মেম্বার জাহিদের উদ্দেশ্যে-

-       নে, সব ঠিকঠাক আছে। কানেকশন দে এবার।

-       আইজকা সব্বার আগে মিলাই তাড়াতাড়ি শেষ করব।

-       হুম, ঠিক আছে। আমি ডেস্কের কোনে গিয়া ঘুম দিচ্ছি। কানেকশন দেয়া হইলে ডাকিস।

-       আইজকা আমি একাই মিলাই ফেলব দেখিস। 

বেশ খানিক্ষণ পর বন্ধু শহীদের ডাকাডাকি…

-       অই, দেখ তো। সবাই মিলাই ফেলতেছে, আর জাহিদ চাচা এখনো মাথার চুল ছিড়ে যাচ্ছে।

চোখ দুটি হালকা লেগে এসেছিল, উঠে দেখি জাহিদের রীতিমতো ঘাম ঝরছে। এরপর দুজনে মিলে সার্কিট চেক করে দেখলাম কানেকশন ভুল ছিল। ঠিক করার কিছুক্ষণ পরই পাঠ চলে আসলো আর ওইদিনের মতো মুক্তি। 

ল্যাব শেষ করে গেলাম লাইব্রেরিতে, লাইব্রেরি কার্ড দিয়ে কিছু বই নেয়া দরকার। প্রমথ চৌধুরী তার “বই পড়া” প্রবন্ধে লাইব্রেরির গুরুত্ব যতটা ফুটিয়ে তুলেছেন তা এরকম সুবিশাল বইয়ের রাজ্যে এলেই কেবল উপলব্ধি করা যায়, কিন্তু এই লাইব্রেরিতে বই পড়া ছাড়া আর সবকিছুই হয় বলা চলে। কেবলমাত্র পরীক্ষার সিজনে ছেলেপিলেরা একটু মনযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে এই লাইব্রেরিতে, আর বাকিটা সময় ল্যাব রিপোর্ট, এসাইনমেন্ট এর নাম করে গল্প-গুজব আর আড্ডায় মেতে থাকে। লাইব্রেরিয়ান স্যার-ম্যামরাও বকা-ঝকা করতে করতে বিরক্ত হয়ে এই পরিবেশকেই স্বাভাবিক মেনে নিয়েছেন। বই নিলাম দুটো, একটা ডিপার্টমেন্টাল...আরেকটা নন ডিপার্টমেন্টাল। ডিপার্টমেন্টাল বই কেবল এমনিতেই নেয়া, আজকাল সব গুগল মামার কাছেই পাওয়া যায়। ক্লাস ক্যান্সেল হলে পরে দুপুরের আগেই ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে পড়লাম, আমি আর জাহিদ গিয়ে উঠলাম মামার টঙে ছোলা-মুড়ি খেতে। 


দুয়েক চামচ মুখে দিতে না দিতেই হঠাৎ আশেপাশে প্রচুর চিৎকার চেচামেচি, আমরা উঠে আশেপাশে তাকাতেই দেখলাম বেশ কিছু ছেলেপিলে আমাদের প্রবর্তক মোড়ের ক্যাম্পাসের দিকে ছুটে যাচ্ছে। টঙের মামা আমাদের উদ্দেশ্য করে…

-       মামা, ভার্সিটি তে কিছু হইছে নাকি?

-       কই না তো, একটু আগেই বের হলাম ক্লাস করে।

-       কিছুক্ষণ আগে আরেক গ্রুপ ছেলেপিলে দৌঁড়ে যাচ্ছিল, আকজনের গেঞ্জি দেখলাম লাল।

-       আরেহ, র‍্যাগ ডে ছিল মনে হয় কোন ডিপার্টমেন্ট এর। 

-       না মামা, মামামারি হইছে নাকি প্রিমিয়ারে।


‘খাইছে’- মুখ দিয়ে অস্ফুষ্টভাবে বেরিয়ে এলো শব্দটি। আর দেরি না করে আমি আর জাহিদ তাড়াতাড়ি জিইসি-র দিকে হাঁটা শুরু করলাম। আপাতত বাসে উঠতে পারলেই হলো, কি না কি হয় বলা যায় না। বাড়ি ফিরে সোশাল মিডিয়াতেই খবর পেলাম আমাদের ভার্সিটির ওয়াসা ক্যাম্পাসে ব্যাবসায় অনুষদ বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র মারামারি করেছে, মারামারি থেকে খুনোখুনি পর্যন্ত হয়ে গেছে এবং একজন ভিক্টিম স্পট ডেড… লাশ চট্রগ্রাম মেডিকেলে। 

<<<আগের পর্ব            পরের পর্ব >>>


শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১

স্নাতকের দিনগুলির ষোলআনা - পর্ব ৩১

                                                 

“যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায় …”

জীবনের এই কঠিন সত্যটি অনেক আগেই বলে গিয়েছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি বিভিন্ন বিদায় অনুষ্ঠানে এই পঙতিটি পাঠ একরকম অত্যাবশ্যকীয় বলা চলে। উচ্চ মাধ্যমিকের বিদায় অনুষ্ঠানের পর দীর্ঘ প্রায় চারটে বছর পর চিরচেনা সেই কলেজ প্রাঙ্গন, চারদিকে আলোর রোশনাই…এ যেন পুরোপুরি এক নতুন ক্যাম্পাস। সন্ধ্যা নেমেছে মাত্রই… টিউশন শেষ করে বাসায় ফিরছিলাম, পথে স্কুলের বন্ধুদের সাথে হঠাৎ দেখা। বেশ খানিকক্ষণ আড্ডা  শেষে বন্ধু ফয়সাল এর জোড়াজুড়িতে আমি, আবদুল্লাহ আর সাদি আমাদের সেই চিরচেনা শাহীন কলেজের গেটের সামনে। এক রকম বলা যায় বিনা রেজিস্ট্রেশনে চলে এলুম, বন্ধু ফয়সাল আয়োজক কমিটির লোক হওয়ায় ঢুকতে তেমন একটা অসুবিধে হলো না।

বহুদিন ধরে হবে হবে করে অবশেষে বেশ ঘটা করে আয়োজন হলো বিএএফ শাহীন কলেজ চট্রগ্রামের এই প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পুনর্মিলনী। ও করলে আমি করব কিংবা আমরা কজন একসাথে রেজিস্ট্রেশন করব এইরকম হাবিজাবি ধ্যানধারণা, ছোটখাটো গ্রুপিং কিংবা রেজিস্ট্রেশন ফি-র পরিমাণকে কেন্দ্র করে আমাদের ব্যাচের বিজ্ঞান বিভাগে বলতে গেলে কেউই রেজিস্ট্রেশন করেনি। হাতে গোনা দুয়েকজন রেজিস্ট্রেশন করেছে, আর আমরা এই কজন বন্ধুরা মিলেতো বলা চলে একরকম চোরের মতো ঢুকে পড়লুম এই পুনর্মিলনীতে। ব্যাবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করেছে, তাদের অনেকের সাথেই দেখা হয়ে গেলো যেতে যেতে। বহুদিন পর কলেজের আঙ্গিনায় পা রাখলুম, এ যেন এক ভিন্ন অনুভূতি। এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করে ক্ষাণিকের জন্যে বসে পড়লুম শ্রেণিকক্ষের বেঞ্জিতে। প্রায় একযুগ, শিক্ষাজীবনের প্রায় পুরোটাই জুড়ে এই বিদ্যাপীঠ…মনে পড়ে গেলো বহু পুরোনো স্মৃতি। ফয়সাল কিছুক্ষণ পর কোত্থেকে বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে এলো… এরপর আমি, আবদুল্লাহ, সাদি ও আরিফ মিলে প্যাকেটগুলো সাবাড় করে নিলুম। শিক্ষকদের অনেকেই ইতোমধ্যে চলে গেছেন, মাঠের ওদিকটায় কনসার্ট হচ্ছে … আশেপাশে সিনিয়র জুনিয়র ভাই-বোনেরা আনন্দ-উল্লাস করছে। রাত বাড়ায় বন্ধুদের থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম, সকালে আবার ভার্সিটির ক্লাস আছে।

নতুন সেমিস্টারে এনরোলমেন্ট এর সময় মেশিন-১ কোর্সখানার নাম শুনে যতটা না উৎসাহী হয়েছিলাম, বাস্তবে এসে দেখি ঠিক তার উল্টো স্বাধ। সামিনা ম্যাম স্লাইডে একের পর এক শীট পড়িয়ে যান, আর এদিকে আমরা সমানে গল্প করে যাই। আজ হঠাৎ করেই ম্যাম বলনেন- “গত ক্লাস আর আজকে মিলে যা পড়াইলাম তার উপর টেস্ট নিবো এখন। বই, খাতা শিট সব বন্ধ করো, CR গিয়ে অফিস থেকে খাতা নিয়ে আসো।” পুরো ক্লাস একসাথে চেঁচামেচি শুরু করে দিলো- “না না ম্যাম, আজকে না।” হঠাৎ করে ম্যাম গর্জে উঠে দিলেন এক ধমক , আর সাথে সাথে পুরো ক্লাস চুপ। 

এতটা কড়াকড়িভাবে পরীক্ষা নেয়া হবে তা কেউই আঁচ করতে পারেনি, এমনকি কোন টপিক নিয়ে পড়ানো হচ্ছিল তা উপস্থিত ছেলেপিলেদের অর্ধেকই জানে না। ম্যাম বোর্ডে প্রশ্ন লিখা শুরু করলেন, বোর্ডের দুই ভাগে দুটি প্রশ্ন লিখলেন যাতে করে পাশাপাশি দুজনের প্রশ্ন ভিন্ন হয়। আমার ভাগ্যে পড়ল- “Four point DC motor starter construction, diagram and working principle” আজকের ক্লাসেই এই টপিকখানা পড়িয়েছেন ম্যাম, আর এটাই কিনা আমার ভাগ্যে পড়ল! মোটরের স্টার্টার নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, ডিসি মোটর অন করার সাথে সাথে  হাই কারেন্ট ফ্লো হয় যা মোটরের কয়েলের ক্ষতি করতে পারে, আর তাই স্টার্টারের মাধ্যমে মোটর চালু করা হয় যা কিনা সেই হাই কারেন্টকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এই বিষয়ে আমি জানতাম কিছু ইন্ডিয়ান চ্যানেলের ইউটিউব ভিডিও দেখে, পাশাপাশি জাহিদের সাথে একখানা মোটর রিপেয়ারিং শপে গিয়ে এই স্টার্টার এর হাতে কলমে কাজ দেখেছি। কিন্তু ম্যাম যখন এই টপিকখানাই পড়াচ্ছিলেন তখন অন্যমনস্ক ছিলাম। এই স্টার্টার এর ভিতরে কি আছে না আছে আর কিভাবেই বা কাজ করে তা লিখতে পারব, কিন্তু ডায়াগ্রামখানা ঠিকঠাক আঁকার কনফিডেন্স ছিলনা... আর তাই ম্যাম প্রশ্ন লিখতে লিখতেই গুগল মামার কাছ থেকে ডায়াগ্রামখানা এক নজর দেখে নিয়েছিলাম।খাতা হাতে পাওয়ার পর-পরই নাম-ধাম না লিখে আগে ডায়াগ্রামখানা আঁকা শুরু করে দিলাম।কোন রকমে ছবিখানা অংকন করে বানিয়ে বানিয়ে নিজের মতো করে বর্ণনা লিখে দিলাম। কাহিনী আরো অপেক্ষা করছিল, ম্যাম পরীক্ষা শেষেই বসে বসে সবগুলো খাতা কাটলেন। এরপর একে একে নাম ডেকে খাতা দিচ্ছিলেন…

- ৭২৮, এই খাতাটা কার? নাম-ধাম কিচ্ছু লিখে নাই কেন?

- ম্যাম, ৭২৮ আমি। ভয়ে ভয়ে দাঁড়ালাম, না জানি কপালে কি আছে আজ!

- উঠে সামনে এসে দাঁড়াও । 

মাথা নিচু করে কাঁচুমাচু হয়ে সামনে গিয়ে দাঁড়ালুম…

- আজকের পরীক্ষায় হায়েস্ট পেয়েছে ও, নাম ধাম কিছু লিখ নাই কেন?

- ম্যাম, তাড়াহুড়ায় মনে ছিল না। (নাম ধামের চেয়ে মাথায় থাকা ডায়াগ্রাম তাড়াতাড়ি আঁকতেই বেশি মনযোগী ছিলাম) 

- এই সবাই চুপচাপ কেন? ওকে কনগ্রেটস জানাও। 

খাতা হাতে নিয়ে দেখি দশে দশ। কি থেকে কি হয়ে গেল কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না, শুধু এটুকু বুঝতে পারছিলাম ক্লাসের মধ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে সাময়িকের ভালো ছাত্র বনে গেছি আর তাই একটু ভাবসাব নিতে হবে যে পড়ালেখা করে আসছিলাম !!!  

একটা ক্লাস শেষ হবার পর আরেকটা শুরু হবার মাঝের সময়টাতে যা হইচই চলে ক্লাসে, নানাজন নানা কাজে ব্যাস্ত এই সময়টাতে। বেশ খানিক্ষণ পর আসিফ স্যার ক্লাসে ঢুকলেন। আসিফ স্যার আমাদের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড এন্ড ওয়েভ কোর্সখানা পড়াচ্ছেন। ফিল্ড এন্ড ওয়েভের আগামাথা পুরোটাই মাথার উপর দিয়ে যায়, আর সবার কি হয় না হয় জানিনা…তবে কেন জানি আমার কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে বলে মনে হয়। মাথায় কেবল ঘুরপাক খায়, এই কোর্সে কিভাবে পাশ করব?

- এই তুমি দাঁড়াও,হ্যাঁ… সবুজ শার্ট।

- স্যার আমি?

- হ্যাঁ, বলো বাউন্ডারী কন্ডিশন গুলা কি?

- “এইটা আবার কি? বাউন্ডারী মানে তো চার-ছক্কা, বল গড়িয়ে সীমানায় লাগলে চার আর উড়ে গিয়ে পড়লে ছক্কা-এইটাই মনে হয় বাউন্ডারী কন্ডিশন” – মনে মনে বিড়বিড় করছিলাম কিন্তু বলবার সাহস পেলাম না।

- এভাবে ঘুমাই ঘুমাই পাশ কেমনে করবা? এরপর রিটেক আর রিকোর্স নিতে নিতে জান বাইর হই যাবে। দাড়াই থাকো,তাইলে আর ঘুম আসবে না।

কি এক বিপদে পড়লাম, মাত্রই চোখ দুটো লেগে আসছিল আর সাথে সাথেই স্যারের চোখে পড়ে গেলাম। নাহ ভবিষ্যৎ অন্ধকার আমার, একই দিনে দুরকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলাম...একবার ভালো ছাত্র, আরেকবার অমনযোগী। এই দুপুরের অসময়ের ক্লাসটা শেষ হতে না হতেই হইহই করে সকলে বেরিয়ে পড়লাম, আজকে আর ক্লাস নাই। অন্য গ্রুপের ল্যাব আছে, আমরা কয়েকজন মিলে শিল্পকলার দিকে চললাম। জিগর না কে যেন বলেছিল শিল্পকলায় Archfest-2016 আয়োজিত হচ্ছে, মানে স্থাপত্যশৈলীর প্রদর্শনী হবে হয়তো। হাটতে হাটতে আমরা জনা সাতেক বন্ধুরা মেহেদিবাগ পেরিয়ে শিল্পকলায় এসে পৌঁছলুম, সেই মুক্তমঞ্চ…মিলনায়তন…আর্ট গ্যালারি। শিল্পকলায় প্রথম এসেছিলাম মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে, “মার্কস অলরাউন্ডার” নামে এক প্রতিযোগীতার জেলা পর্যায়ের সিলেকশান পেয়েছিলাম। প্রাথমিক বাছাইয়ে আবৃত্তি, ছবি আঁকা আর কুইজ বিভাগে মনোনীত হয়ে জেলা পর্যায়ে এসেছিলাম। কিন্তু জেলা পর্যায়ে আগের তিনটার সাথে নাচতে ও গাইতে বলার পর আমার খেল খতম। বন্ধুরা সবাই শিল্পকলায় ঢুকেই আর্ট গ্যালারির দিকে গেলাম, সত্যিই আর্কিটেকচার এর ছাত্রছাত্রীরা খুব সৃষ্টিশীল। কাঠ, পেরেক, বোর্ড, কাগজ, কাপড়,লোহা-লক্কর, ইট-রড-সিমেন্ট, বাঁশ ইত্যাদি যে কোন উপাদান দিয়ে দারুণ দারুণ সব চিত্রকর্ম থেকে শুরু করে সৃষ্টিশীল উদ্ভাবনীতে তাদের জুড়ি মেলা ভার। আমরা সব বন্ধুরা শিল্পকর্ম বোঝার চেয়ে ছবি তোলায় বেশি মনযোগী ছিলা, এদিক সেদিক গিয়ে বিভিন্ন পজিশন নিয়ে ছবি তুলে ঘোরাঘুরি করে বেরিয়ে এলাম। ভেবেছিলাম নাস্তা-পানির কোন ব্যাবস্থা থাকবে, কিন্তু নাহ…সবকয়টা বেরিয়ে এসে বাইরে চা-নাস্তা করে যে যার গন্ত্যব্যে পা বাড়ালাম।  

<<< আগের পর্ব         পরের পর্ব>>>

 

স্নাতকের দিনগুলোর ষোলআনা - পর্ব ৪২

  মাইক্রোকন্ট্রোলার নিয়ে নুব লেভেলে কাজ করতে গেলে আর্ডিনোর বিকল্প হয়না , আর চারিদিকেও এই আর্ডিনোর জয়জয়কার চলছে। ক্যাম্পাস থেকে ফেরার পথে ফেম...