ল্যাব
ক্লাস শেষ করে বের হতে না হতেই সুব্রত-র সাথে দেখা। আজকে বিকেলের মধ্যেই প্রকল্পের
সব কাজ শেষ করে বিকেলের ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে, কাজ যা করার এই চার-পাঁচ
ঘন্টার মধ্যে শেষ করতে হবে। টিকেটের বন্দোবস্ত রাশেদ করে রেখেছে। বাসা থেকে ব্যাগপত্তর
একেবারে গুছিয়েই বেরিয়েছি আর জিনিসপত্র যা ছিল সব নিয়ে লাইব্রেরিতে রেখেছি, এখন হাতে
হাত লাগিয়ে বাকি কাজ শেষ করা বাকি। প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্যে আমরা আজকের বাকি ক্লাসগুলো
করবনা বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। প্রিন্ট করা রঙিন ম্যাপখানা একটা মোটা পেপার বোর্ডের উপর
রেখে এন্টি-কাটার চালিয়ে গেলাম, ম্যাপখানা সুন্দরভাবে কেটে বোর্ডের উপর বসানো হয়ে গেল।
এরপর খালের পানি বোঝাতে প্লাস্টিকের নীল ওয়াটার শীট কেটে লাগালাম। ছোট ছোট বিভিন্ন
স্থাপনা কেটে বসাতে লাগলাম আমরা ম্যাপের উপর… আর ম্যাপখানাকে ত্রিমাত্রিক চিত্র দেয়ার
চেষ্টায় মগ্ন ছিলাম। এর মধ্যেই বন্ধু রাশেদ আমাকে উদ্দেশ্য করে বল-
-দোস্ত,
তুই অটোমেটিক খালের ময়লা তোলার যন্ত্রটার মডেল মানাই ফেল, আমি আর সুব্রত ম্যাপ মানাচ্ছি।
-আচ্ছা
ঠিকাছে, দুপুরের কিছু খাবারের তো বন্দোবস্ত করতে হবে। আমি নিচে গিয়ে দেখি কিছু পাই
কিনা।
কাজ
করতে করতে কবে যে দুপুর দুটো বেজে গেছে তা আমাদের খেয়ালই নেই, হাতেও আর বেশি সময় নাই
– বিকাল পাঁচটার ট্রেন ধরতে হবে। আমি নিচে গিয়ে বন-কলা আর পানি কিনে উপরে এলাম। দেখলাম
লাইব্রেরি নোংরা হয়ে যাচ্ছিল বলে ওদের উপর তলায় এক্সাম কন্ট্রোলার এর রুমের সামনে পাঠিয়ে
দেয়া হয়েছে। সুব্রত আর রাশেদ বিশাল ফ্লোরে আসন পেতে কাজ করে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে।
-এই
নে, বন-কলা দিয়েই দুপুরের খাবারটুকু সেরে নে। কোথাও ভাত-বিরিয়ানি পেলুম না…সব শেষ।
-হ,
বিরিয়ানি ও খাবর তুই আরা রে। রাশেদ আমাকে মুখ ভেংচিয়ে বলল, বিরিয়ানি খাওয়ানোর সামর্থ্য
আমার নেই।
-আচ্ছা
ঠিক আছে, ঢাকা যাই। জমিয়ে ভাল-মন্দ খাওয়া যাবে।
প্রায়
চারটের মধ্যে কাজ মোটামুটি গুছিয়ে এলো আমাদের, আমাদের পরিকল্পনাগুলোকে একটা সুন্দর
ত্রিমাত্রিক মডেলে রূপ দিতে পেরে আমরা খুশি, এদিকে স্যারদের রুম থেকে সুব্রত গিয়ে পানির
লেভেল ডিটেক্ট করার একটা ছোট প্রজেক্ট নিয়ে এলো। মোটামুটি জোড়াতালি দিয়ে দাঁড়িয়ে গেল
আমাদের প্রকল্প “চাক্তাই স্বয়ংক্রিয় বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা”।
বটতলী
স্টেশন… প্লাটফর্মে থাকা মাইকে ভেসে আসছে নারী কণ্ঠ -“চার নম্বর প্লাটফর্মে থাকা আন্তঃনগর
ট্রেন মহানগর গোধূলী ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে সময় বিকাল পাঁচ ঘটিকায়”। পাঁচটা বাজতে
আর মিনিট পাঁচেক বাকি, ক্যাম্পাস থেকে সব কিছু গুছিয়ে আসতে আসতে দেরি হয়ে গেছে। টিকিট
মিলিয়ে বগি ধরতে ধরতে ৩৯ খানা বাংলা ব্যাঞ্জনবর্ণের অর্ধেক প্রায় পড়া হয়ে গেল বহুদিন
পর। বগিতে উঠে সিট ধরতেই রাজ্যের প্রশান্তি নেমে এলো আমাদের চোখেমুখে। লম্বা হুইসেল
বাজিয়ে ঝিক ঝিক শব্দে ট্রেন ছেড়ে দিলো বটতলী স্টেশন। বগিতে আমি আর রাশেদ পাশাপাশি বসলাম,
সুব্রত একটু দূরে। লক্ষ্য করলাম বগির মাঝামাঝি এক তরুণী সমানে ঝগড়া করে যাচ্ছে জানালার
পাশে বসা এক যুবকের সাথে, উঠে কাছে গিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলাম ব্যাপারখানা। যতদূর বুঝলাম-
দুজনই দুজনের পূর্বপরিচিত, দুজনেরই সিট পড়েছে জানালার পাশে কিন্তু মুখোমুখি… অথচ এতো
লম্বা সময় ধরে দুজনের কেউই কারো মুখ দেখতে চান না। প্রেমঘটিত ব্যাপারস্যাপার হবে হয়তো,
শেষমেশ অবশ্য আর না পেরে ছেলেটি পাশের আরেকজন ভদ্রলোকের সাথে সিট পরিবর্তন করল। আমি
আমার সিটে ফিরে এলাম আর মনে পড়ে গেল রবীন্দ্রনাথের সেই “হঠাৎ দেখা” কবিতাটি…
“রেলগাড়ির
কামরায় হঠাৎ দেখা, ভাবিনি সম্ভব হবে কোনদিন…”
আজ
কবিগুরু এই কামরায় থাকলে এই দৃশ্য দেখে নির্ঘাত নিজের মাথার চুল নিজে ছিড়তেন। এর আগেও
বহুবার ট্রেনে চড়েছি, ঢাকায় এসেছি। একটা বিষয় ভাল করে খেয়াল করেছি কুমিল্লা অতিক্রম
করার পর থেকেই চট্রগ্রামের অধিকাংশ স্থানীয় লোকেরা তাদের মুখের বুলি বদলে ফেলে, এর
আগে জম্পেস চাঁটগাইয়া ভাষায় কথোপকথন চালিয়ে যায়। আমাদের সামনে বসা ভদ্রলোক আমাদেরকে
উদ্দেশ্য করে বললেন…
-বাবারা,
তোমরা কি ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্ট ?
-জি,
হ্যাঁ আঙ্কেল। ঢাকায় একটা প্রতিযোগিতায় যাচ্ছি।
-ও
আচ্ছা, আমার ছেলেও ঢাকার একটা নামকরা প্রাইভেট ভার্সিটি তে পড়ে। তোমরা কি চুয়েটের
?
-জ্বি
না আংকেল, আমরা চট্রগ্রাম শহরের ছোটখাটো এক প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছাত্র।
ভদ্রলোকের
সাথে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে বগিতে পুলিশ আসলো মালামাল চেক করতে, আমার ব্যাগ খুলে পেল
মাল্টিমিটার, সোল্ডারিং আয়রন ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি।
-এইসব
কি এঁ? দেখি তো সব বাইর করে নিচে ফেলেন।
-আঙ্কেল
আমরা ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্ট, ঢাকায় একটা প্রতিযোগিতায় যাচ্ছি।
-স্টুডেন্ট
তো বুঝলাম, ব্যাগে আর কি কি আছে বলেন।
-প্রকুশলী,
প্রকুশলী…
-ও
আচ্ছা, ঠিক আছে। আইডি কার্ড দেখান।
পাশে
থাকা টিটি প্রকৌশলী কে কি বিদঘুটেভাবে “প্রকুশলী” বললেন তা শুনে আমার হাসিতে পেট ফেটে
যাচ্ছিল, অনেক কষ্টে হাসি চেপে রেখে আইডি কার্ড দেখিয়ে নিস্তার পেলাম তাদের কাছ থেকে।
ঢাকা নেমে কোথায় উঠব তা নিয়ে গুরুগম্ভীর আলোচনা চলছিল আমাদের তিনজনের মধ্যে, এর আগে
আমি যতবারই ঢাকা এসেছি প্রত্যেক বারই কোন না কোন পরীক্ষা দেবার উদ্দেশ্যে। ঢাকায় আমার
কোন আত্মীয় নেই বললেই চলে, তাই প্রথমবার উঠেছিলাম স্কুলের এক বন্ধুর বাসায়। বন্ধুর
বাসায় দুদিন যেতে না যেতেই এ-কথা ও-কথা বলে বের করে দেয় বন্ধুর মা। এরপর রাত কাটিয়ে
দেই পথে-প্রান্তরে কিংবা ইজতেমার ময়দানে। আবার তীব্র শীত সইতে না পেরে গিয়ে উঠি আরেক
বন্ধুর বাসায়। সেই অতীত মনে পড়লে আমার আর ঢাকায় আসতেই ইচ্ছে করে না। পরবর্তীতে অবশ্য
বিমান বাহিনীতে কর্মরত প্রতিবেশী এক আঙ্কেল ঢাকায় পোস্টিং হয়ে এলে বেশ কবার উঠেছি উনার
বাসায়, এবারও উনার উপর ভরসা।
রাত
বাজে সাড়ে এগারোটা। বিমান বন্দর স্টেশন আসতেই ব্যাগ আর প্রজেক্টের জিনিসপত্র নিয়ে আমরা
নেমে সেই আঙ্কেলকে ফোন দিলাম, এতো রাতেও বিরক্ত না হয়ে আঙ্কেল চলে আসতে বললেন বাসায়।
কিন্তু সমস্যা হলো, আমি আংকেল এর বাসায় রাস্তা ভুলে গেছি…বালুঘাট না কি যেন এলাকার
নাম। ভুল গাড়িতে উঠে এদিক ওদিক ঘুরে আংকেল কে ফোন দিতে দিতে শেষমেশ রাত সাড়ে বারোটায়
গিয়ে পৌঁছলাম উনার বাসায়।
-বুঝলা
সানি, তোমার আন্টি বাপের বাড়ি গেছে বাচ্চাদের নিয়ে। আমি তাও যতদূর পারছি রান্না করছি,
আশা করি সবার হয়ে যাবে।
-এতো
রাতে রান্না করতে গেলেন কেন আঙ্কেল? আমরা তো ট্রেনেই খেয়ে নিয়েছি।
-কি
যে বলো? তোমার আম্মার আতিথেয়তার কথা ভুলতে পারি না। সে তুলনায় এসব কিছুই না।
-জ্বি
আঙ্কেল, আম্মু আপনাদের কথা সব-সময় বলে। আন্টি কেমন আছে? বাচ্চারা?
-হ্যাঁ,
আছে সবাই ভালো। নানুবাড়ি গেছে।
হাতমুখ
ধুয়ে খেতে বসেছি, এই রাত বিরাতে আঙ্কেল কিভাবে গরুর মাংস রান্না করলেন জানা নাই। সেদ্ধ
হয়েছে কিনা জিজ্ঞাস করলেন, সেদিকে আমাদের ভ্রুক্ষেপ নেই। ক্ষিদেয় পেট চো চো করছে তিনজনেরই,
কাঁচা দিলে কাঁচাও খেয়ে ফেলতে পারব এই অবস্থায়। আঙ্কেলের উষ্ণ আতিথেয়তায় আমাদের ক্লান্তি
কিছুটা কমল, ঘুমোলেই পুরোপুরি কেটে যাবে।
সকাল
সকাল উঠেই আঙ্কেল কে বিদায় জানিয়ে তিনজন একসাথে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম জসিমউদ্দির উদ্দেশ্যে,
আর আঙ্কেল চলে গেলেন তার কর্মক্ষেত্রে। পথে হালকা নাস্তা করে অটোরিক্সায় করে পৌঁছলাম
জসিমউদ্দি। এই স্টপেজ দিয়ে IUT এর বাস যাবে, আর আমরা উঠে পরব। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে
করতে আরো ৪-৫ জন এসে হাজির হল স্টপেজে, বাস আসতেই আমরা সবাই উঠে পড়লাম… গন্তব্য বোর্ডবাজার-গাজীপুর
IUT ক্যাম্পাস। ফাঁকা রাস্তায় সাঁই সাঁই করে বাস ছুটছিল, আর আশেপাশের ছেলেপিলেদের মাঝে
আমরা নিজেদের বোকা-গেঁয়ো হিসেবে আবিষ্কার করছিলাম। ঢাকা শহরের স্কুল-কলেজের ছেলেপিলেরাও
আমাদের চেয়ে অনেক স্মার্ট যেমন কথাবার্তায়, তেমন চালচলনে।
প্রায়
মিনিট-চল্লিশেক পর বাস এসে থামল একটা বিশাল ফটকে…ভেতরে ঢুকে গেল বাস। আরিব্বাস…কি বিশাল
রেড ক্যাম্পাস। এই তাহলে IUT। বাস গিয়ে থামল এক বিশাল গাড়ি পার্কিং এ। নেমেই নিজেকে
আবিষ্কার করি লাল ইটের গাথুনিতে গড়া এক মনোরম ক্যাম্পাসের মাঝে। সুবিশাল মসজিদ, মসজিদের
সামনেই মনোরম লেক, একটু দূরে বাস্কেটবল গ্রাউন্ড, লন টেনিস গ্রাউন্ড, ফুটবল গ্রাউন্ড,
একাডেমিক ভবন, ক্যাফেটারিয়া, নর্থ হল, সাউথ হল… চারদিকে কেবল লাল ইটের সুবিশাল স্থাপনা,
এককথায় Red Campus বলা চলে। সেন্টাল লাইব্রেরির নিচে আমাদের প্রকল্প প্রদর্শনীর জন্যে
স্টল করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সব ভুলে গিয়েছিলাম, হুশ ফিরে পেতেই
আমরা আমাদের টি-শার্ট আর গিফট সামগ্রী সংগ্রহ করে এটেনডেন্স শিট এ সাইন করে স্টল সাজাতে
ব্যাস্ত হয়ে পড়ি। বেশ কিছুক্ষণ ধরে রাশেদকে দেখছি না…আমি আর সুব্রত ওর নাম নিতে না
নিতেই স্টলের সামনে ওকে আবিষ্কার করলাম…
-দোস্ত,
অনেক গুলা কম্পিটিশন হচ্ছে। অডিটোরিয়াম এ হচ্ছে লাইন ফলোয়ার আর মাল্টিকপ্টার রেসিং
কন্টেস্ট, প্রতিযোগিতার মূল আকর্ষণ এই দুইটা।
-তাই
নাকি? আচ্ছা এদিকটা গুছিয়ে ঘুরে আসব।
আমরা
আমাদের স্টল গুছাতে না গুছাতেই প্রচুর দেশি-বিদেশী শিক্ষার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়ে
গেল। বিদেশী শিক্ষার্থীরাই সংখ্যায় ছিল বেশি এক রকম। বিশ্ববিদ্যালয় OIC কর্তৃক পরিচালিত
হয় বলে সদস্য দেশগুলো থেকে বৃত্তি নিয়ে পড়তে আসে প্রচুর ছাত্রছাত্রী। ইংরেজি তে একটানা
বকতে বকতে মুখ ব্যাথা করছিল, ভাঙ্গাচোরা ইংরেজি যাকে বলে আরকি…যখন যেটা মুখে আসছিল
ওটাই কাজে লাগিয়ে দেয়া। আমি একটু বিশ্রাম নিতেই সুব্রত-র “হোয়েন…এ…হোয়েন…এ…হোয়েন” টান
নিয়ে আটকে যাওয়াতে আমি আর রাশেদ মুখ টিপে হাসতে লাগলাম, এরপর হাবিজাবি বকে বিদায় করলাম
সুদানিজ কিছু দর্শনার্থীদের। দুপুরের বিরতিতে আয়োজকদের দেয়া বিরানি খেয়েদেয়ে আশেপাশের
কিছু স্টল ঘুরে দেখছিলাম, প্রচুর ছবি তুললামও বটে।
-“খাইউস
নে এবার বিরানি?” – রাশেদকে উদ্দেশ্য করে বললাম।
-“ইন
তো প্রোগ্রাম কমিটির বিরানি, তুই কত্তে খাবাবি ইয়েন হ।”
-“চিটাং
যাই লই থিয়ে, তোরে জন্মের খাবান খাবাইউম।”
আশেপাশের
অন্যান্য প্রকল্পগুলি আমাদের চেয়ে অনেক উৎকৃষ্টমানের। এই প্রজেক্ট প্রদর্শনীতে আমরাই
একমাত্র চট্রগ্রাম থেকে এসেছি। ঢাকা শহরের নামকরা সব ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটির ছেলেপিলেরা
প্রকল্প নিয়ে এসেছে, অধিকাংশ প্রকল্পই আর্ডিনো আর রাসবেরি পাই নামে বোর্ড দিয়ে বানানো।
আরেকটি প্রকল্পে দেখলাম খুব সুন্দর করে একটা মেশিন ডিজাইন করে এনিমেশন করেছে ওরা, একটা
Can Crushing Machine। এই আর্ডিনো আর ডিজাইন এনিমেশন যে করেই
হোক আমাকে শিখতেই হবে- তখনই মনে মনে পণ করে নিলাম আমি। বিকেলের দিকে কোন এক নিউজ চ্যানেল এসে আমাদের দিকে ক্যামেরা
তাক করে ইন্টারভিউ নিল। শেষ বিকেলে সবকিছু গুছিয়ে অডিটোরিয়ামে গেলাম ফলাফল জানতে, লাইন
ফলোয়ার প্রতিযোগিতার ফাইনালটাও উপভোগ করলাম এ সুযোগে। লাইন ফলোয়ার ইভেন্টে আমাদের ভার্সিটির
এক সিনিয়র ভাই এর সাথে দেখা হয়ে গেল, কিছুটা সময় কাটলো তাদের সাথে। নাহ, আমরা কোন স্থান
অর্জন করতে পারিনি। মন খারাপ করে লেকের পাড়ে বাসের জন্যে অপেক্ষা করছিলাম সবাই। সন্ধ্যা
নেমে এসেছে রেড ক্যাম্পাসে, কি মনোরম পরিবেশ। ইশ, এই ক্যাম্পাসে যদি কটা দিন কাটাতে
পারতাম ! ক্লাস করতে পারতাম! সৃষ্টিকর্তা ওদিন হয়তো আমার কথা শুনেছিলেন, পরবর্তীতে
প্রফেশনাল হিসেবে এক সপ্তাহের একটা শর্ট কোর্সে নিমন্ত্রণ পাই এই রেড ক্যাম্পাসে।
লেকের
পাড়ে বেশ কিছুক্ষণ ধরে লক্ষ্য করেছিলাম এক যুগল প্রচুর কথা বলছিল, ওমা এরা দেখছি বাসেও
আমার সামনের সিটেই বসেছে। কপালটাই মন্দ, না পারতেও তাদের কথাবার্তা শুনতে হচ্ছিল। সুন্দরী
তরুণী বার-কয়েক পেছনে ফিরে তাকিয়েছিল বটে, আমাকে দেখে হয়তো স্কুল-কলেজের কোন বাচ্চা
ভেবে তাদের কথোপকথন চালিয়ে গেছে। “এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হবে তুমি বলতো?” কিংবা
“আর কটা সাবজেক্ট আছে? কবে শেষ হবে বলতো?” তাদের এই স্নাতকজীবন কিংবা এরপর তারা তাদের
ক্যারিয়ার আর সংসার কি-করে সাজাবে এইসব হাবিজাবি টপিক্স নিয়ে কথা শুনতে শুনতেই পুরো
রাস্তা ফুরিয়ে গেল আমার। আমি রাশেদ আর সুব্রত নেমে পড়লাম বাস থেকে, গন্তব্য সায়েদাবাদ…চট্রগ্রামের
বাস ধরতে হবে। আবার সেই ঘরে ফিরে যাওয়া…পেছনে ফেলে যাওয়া এই জাদুর শহর ঢাকা।




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন