রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০

স্নাতকের দিনগুলির ষোলআনা - পর্ব ৭


-“ভাই, গতকাল সেই ম্যাচ হইছে… যদি আসতি রে ভাই”

-“ওফফ, মিস করে ফেললাম তাহলে”

-“হ, আমগো ডিজে মামা তো যেই মাইর রে ভাই, বলে বলে ছক্কা”

-“ডিজে মামা টা আবার কে?”

-“আরে শাওন আরকি, ডিজে শাওন… CR শাওন না আবার”

-“ও আচ্ছা”

খুব প্রফুল্লভাবে কথাগুলি আমাকে বলছিল সাব্বির। ছেলেটা খুবই হেল্পফুল, একটা কলম চাইতেই ওর হাতের কলমটা আমাকে দিয়ে দিল আর ব্যাগ থেকে অন্য কলম বের করে নিল নিজের জন্যে। গতকাল শুক্রবার ছিল, এ সেকশান এর সাথে আমাদের বি সেকশানের একটা প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল কিন্তু দিনশেষে যে এই প্রীতিম্যাচ অপ্রীতিকর অবস্থায় রূপ নেবে তা কে জানত !!! গতকাল কোচিং এর অতিরিক্ত ক্লাস নিতে গিয়ে মেডিকেল ফিল্ডের এই প্রীতি ম্যাচটাতে আসতে পারিনি, আর তাতেই নাকি ঘটে গেছে লঙ্কাকান্ড। প্রচুর কথা কাটাকাটি, স্লেজিং একসময় গিয়ে মারামারিতে রুপ নেয় আর তাতে আরো ঘি ঢেলে দেয় ডিজে শাওনের অপরাজিত ৭০ রান।

-“নোবেল অনিক যেখানে আছে সেখানে এরকম মারামারি স্বাভাবিক ব্যাপার” সাব্বিরকে লক্ষ্য করে বললাম আমি।

-“আরেহ ডিজে মামার মাইর দেখে ওরা ভয় পাইছে, শেষমেষ তো বলই হারাই দিল…এজন্যে ক্ষেপে গেছে ওরা”

-“ও আচ্ছা, কাহিনী তাহলে এখানে”

আজকাল ক্লাসে কারো মন নাই, প্রথম দু-একদিন একটু সিরিয়াস ছিল সবাই…এরপর থেকে থোরাই কেয়ার ভাব। তার উপর এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। প্রথম ক্লাস শেষ হতে না হতেই সব খেলোয়াড় একসাথে জড়ো হলো, জার্সি দেয়া হবে এখন। ছাই রঙা বিশ পিছ টিশার্ট আমি, নোবেল আর জন কয়েক হকার্স এ গিয়ে আগেই কিনে স্কিন প্রিন্টের জন্যে দিয়ে এসেছিলাম। দেখতে বেশ ভালোই হয়েছে, বুকের দিকে ইংরেজিতে কোণাকুনিভাবে “Circuit Breakers” লিখা। নামের সাথে টিমের পারফর্মেন্স এখন খাপে খাপে মিলেছে। ডিজে শাওন আর সাইদুল এর ব্যাটিং দেখে আমাদের আশার পালে হাওয়া লেগেছে। গতকালের ম্যাচে মীর আর পার্থ ভালোই বোলিং করেছে। আর তাই টিশার্ট পেতে না পেতেই গ্রুপ সেলফি তোলা শুরু হয়ে গেল। আগামীকাল সপ্তম সেমিস্টার এর সাথে আমাদের প্রথম ম্যাচ, আর সবাইকে দেখিয়ে দিতে হবে “আমরাও পারি”।

-“রাশেদ, আমার একটা ছোটখাটো IPS বানাইতে হবে, তুই জানিস কোথায় জিনিসপত্র পাবো”? ক্লাস শেষে বন্ধু রাশেদকে প্রশ্ন করলাম। 

-“IPS মানাবি যে? আমিও তো মানাব, মার্কেট যাইতে হবে”।

-“চল আজকে যাই”

-“আইচ্ছা চল, আমার কিছু ডিসি বাল্বও কিনতে হবে”

গোলপাহাড় থেকে আমরা দুজন নিউ মার্কেটের বাসে উঠলাম। কোন বাসই খালি নাই, গাদাগাদি করে বাসে চড়া আমার প্রতিদিনকার অভ্যেস… আর তাই কোন রকমে দুজন একটা বাসে ঝুলে পড়লাম। তিন পুলের মাথা পার হয়ে বাস শাহ আমানত মার্কেটের সামনে আসতেই আমরা নেমে পড়লাম। পুরো শাহ আমানত মার্কেট চক্কর দিয়েও ব্যাটা রাশেদ কোন ব্যাটারি কিনল না, ভেবেছিলাম বাবা বিদেশ থাকে… হাত খুলে খরচ করবে হয়ত। এ তো দেখছি আমার চেয়ে বেশি কিপটে…একেবারে হাঁড়কিপটে যাকে বলে। কিছু না কিনেই ব্যাটা শাহ আমানত মার্কেট থেকে বেরিয়ে তামাকুন্ডি লেনের পাশেই আন্ডারগ্রাউন্ড মোবাইল মার্কেটে ঢুকল।

-“একানে অনেক কম দামে পেয়ে যাব, দেখিস”।

-“তো অই মার্কেটে গেছিলি কেন” ?

-“একটা আইডিয়া গরার জন্য, আগে কিনি নাই তো”

-“আইচ্ছা, এই ছিল তোর মনে”

অনেক অলিগলি ঘোরা শেষে এক দোকান থেকে বার ভোল্টের লেড এসিড ব্যাটারি আর ডিসি বাল্ব কিনে আমরা রওনা দিলাম আইচ ফ্যাক্টরি রোডের ইলেকট্রনিক্স মার্কেটের দিকে। এই ব্যাটারিকে চার্জ করার জন্যে চার্জিং সার্কিট কিনতে হবে। বাগদাদ ইলেকট্রনিক্স মার্কেটে ঢুকে সোজা গিয়ে “ফেমাস” নামে একটা দোকান চোখে পড়ল, এই মার্কেটে আজই প্রথম এলাম আমি।

-“লেড এসিড ব্যাটারি চার্জিং সার্কিট আছে ভাই?” রাশেদ দোকানের ছেলেটিকে প্রশ্ন করল।

-“এটার সার্কিট তো পাবেন না, নিজেদের বানাই নিতে হবে”

-“মানাইতে কি কি লাগবে একটু বললে ভাল হয়”

-“এইতো একটা ১২ ভোল্টের ট্রান্সফরমার আর দুইটা ৩ এম্পিয়ার এর ডায়োড। ডায়োড ১ এম্পিয়ার এর নিলে চারটা লাগবে। দুইটা ডায়োড দিলে হাফ ব্রিজ, চারটা দিলে ফুল ব্রিজ”

-“ও আচ্ছা, দেন না” দোকানের ছেলেটি কি বলল কিছুই বুঝলাম না, কেবল ট্রান্সফরমার আর ডায়োড শব্দ দুটি আমাদের পরিচিত।

শেষমেষ ট্রান্সফরমার-ডায়োড কিনে কিভাবে কানেকশন দিবো তা বুঝে নিলাম। দোকানী ছেলেটির নাম সাজু, কথা বলতে বলতে বেশ আন্তরিকতা হয়ে গেল তার সাথে। আমার হাত খালি থাকায় সেদিন কেবল দেখেই গেলাম, কিছু কিনতে পারলাম না। ঠিক অই মুহূর্তে আমি রাশেদকে আমার গুরু মানছিলাম, গুরু যদি সফল হয় আমিও ব্যাটারি দিয়ে এরকম একটা চার্জিং লাইট সার্কিট মানাব… থুক্কু বানাব, গুরুর সাথে থাকতে থাকতে গুরুর মতেই হয়ে যাচ্ছি।  

বাসায় এসেই খেয়েদেয়ে ছুট লাগালাম কোচিং এর দিকে, আজ ক্লাস নেই আমার, কিন্তু কি যেন এক গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে বলল পরিচালক। মিটিং শেষে সন্ধ্যায় আবার কোচিং এর টিম নিয়ে ডেইলপাড়া ম্যাচ খেলতে যেতে হবে। একেবারে ভার্সিটির সার্কিট ব্রেকার টিশার্ট গায়েই বেরিয়ে পড়েছি, যাতে করে একেবারে খেলা শেষ করে ফেরা যায়। কোচিং এ পৌঁছাতেই দেখি আলাদা একটা রুমে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, বেশ কিছু অপরিচিত মুখ দেখতে পাচ্ছিলাম…পরিচিতদের মধ্যে পরিচালক হালিম স্যার ছাড়া ছিল দুজন কোচিং এর শিক্ষক। আমি গিয়ে বসতেই আরো জনা পাঁচেক লোক আসন গ্রহণ করলেন, এরপরই শুরু হলো হালিম স্যারের বক্তব্য…

-“আজ আপনাদের সকলকে এখানে ডেকেছি একটা বিশেষ কারণে, আপনারা প্রায় সবাই এই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং এই এলাকার প্রতি আমাদের সকলের কমবেশি দায়িত্ব-কর্তব্য আছে।”

-“এটা কি কোন রাজনৈতিক মিটিং ভাই?” পাশে বসে থাকা চশমা পরিহিত ভাইটিকে ভয়ে ভয়ে প্রশ্ন করলাম, খচখচ করে ডাইরীতে কি যেন লিখছেন উনি। উপরে ডান পাশে তারিখ দিয়ে মাঝামাঝি লিখেছেন “Youth Renaissance, সাধারন সভা - এক”। অল্প কিছুক্ষণ হালিম স্যারের বক্তব্য শুনেই বুঝতে পারলাম এলাকার বেশ কিছু উদ্যমী তরুণদের নিয়ে একটি অরাজনৈতিক সমাজসেবামূলক সংগঠন গঠিত হতে যাচ্ছে যাদের লক্ষ্য থাকবে এলাকার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আর্ত-সামাজিক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থানমূলক বহুমুখী উন্নয়ন। একে একে সবাই যার যার পরিচয় দিল এবং প্রত্যেককে সংগঠনের একটি করে ফর্ম বিলি করা হলো। সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ মনোনয়নের পর সমন্বয়ক পদের জন্যে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলো আর একটি সুষ্ঠু গঠনতন্ত্র প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়া হলো।

-“এই পাঁজি হালিম স্যারটা আমাকে বার বার কেন এমন ঝামেলায় ফেলে দেন বুঝি না, কখনো কোন সংগঠন করলাম না, আর আজকে সংগঠনের গঠনতন্ত্র বানাতে হবে, তার উপর সমন্বয়কের দায়িত্ব। একেবারে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা অবস্থা”। মনে মনে হালিম স্যারের গুষ্ঠি উদ্ধার করছিলাম আমি। অবশ্য তখন যদি জানতাম এই সংগঠনের সাথে থেকেই বেশ কিছু সফল আয়োজনের অংশীদার হবো কিংবা আমারই প্রণীত সেই গঠনতন্ত্র দেখে পরবর্তীতে বিভিন্ন সংগঠন তাদের গঠনতন্ত্র প্রণোয়নের জন্যে পরামর্শ চাইবে তবে তখনই হাত ভরে দুআ করতাম এই মানুষটার জন্যে যিনি কিনা আমার অনেক সুপ্ত প্রতিভাকে একরকম নিংড়ে নিংড়ে  বের করেছেন। 

মিটিং শেষ করেই হালকা নাস্তা করে খেলোয়াড়দের নিয়ে ছুটলাম ডেইলপাড়ার উদ্দেশে, আজ আমাদের প্রতিপক্ষ “ফুটন্ত পথিক একাদশ” – “কি অদ্ভুত নাম রে বাবা, একেবারে ফুটিয়ে ফেলবে আমাদের বোধ হয়”- মনে মনে কিছুটা ভয় পাচ্ছিলাম, কেননা দিনে বহু ম্যাচ খেললেও রাতে ফ্লাড লাইটের আলোতে কোন ম্যাচ খেলা হয়নি। মাঠে পৌঁছতেই দেখি বিপক্ষ দল আমাদের জন্যে ফুটানোর অপেক্ষা করছে। কোচ হিসেবে নয় জন খেলোয়াড় থেকে সাত জনের নাম ঘোষণা করলাম আর অধিনায়ক হিসেবে গেলুম টস করতে। টসে হেরে পেলাম ব্যাটিং , রাত বাড়লে কুয়াশা বাড়বে, আর বল করা কঠিন হয়ে পড়বে … সহজ সমীকরণ।

ভাগ্যের লিখন যায় না খন্ডন, নিয়তিকে মেনে নিয়েই ব্যটসম্যান আরিফ আর কামরুলকে নামালাম। আরিফ দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী, খুব ভাল ব্যাট চালায় ছেলেটা। নেমেই পরপর তিনটে চার মেরে চতুর্থ বলেই বোল্ড হয়ে গেল বেচারা, এরপর নামল সাকিব। সাকিব আর কামরুল মিলে বেশ কিছুক্ষণ উইকেট ধরে খেলায় স্কোরবোর্ডে জমা হয় পাঁচ ওভারে পঁচিশ রান। আর মাত্র পাঁচ ওভার বাকি।  সত্তর-আশি করতে না পারলে রান আটকে রাখা যাবে না।

-সাকিব, মেরে খেল এবার। সাকিবকে উজ্জিবিত করে বললাম

-জী ভাই, খেলছি।

মেরে খেলো বলতে না বলতেই ওই ওভারে কালবৈশাখী ঝড়ের আমের মতো টপাটপ তিনটে উইকেট পড়ে যায়, আর দল পড়ে যায় চরম বিপর্যয়ে।

দলের বেহাল দশায় ব্যাট হাতে ক্রিজে নামতে নামতে ভাবছিলাম- “পারব তো, মান সম্মান কিছু রাখতে?” ক্রিজে তো দেখি পার্টনার হিসেবে আছে সেই বাচাল তনয়।

-“তনয়, কিছু একটা করতে হবে। মাঠের বাইরে এতো কথা বলো , মাঠে নেমে চুপ কেন”?

-“জ্বি ভাই, খেলতে আছি তো তাই। টেনশনে কথা বার হচ্ছে না”।

-“বেশি বেশি কথা বলো, যা খুশি তাই বলো। আর বোলারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করো”।

-“আচ্ছা ঠিক আছে ভাই”।

 টোটকা দিতে না দিতেই তনয় কাজে লাগানো শুরু করল যার ফলশ্রুতিতে ভুরি ভুরি অতিরিক্ত রান আসা শুরু হলো। ব্যাপারটাতে ভীষণ মজা পেয়ে তনয় বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে যেমন অনেকটা সামনে এগিয়ে গিয়ে, ডানহাতি থেকে বাঁহাতি তে শাফল করে, শুয়ে বসে পড়ে রানের চাকা সচল রাখল। আমিও সিঙ্গেলস নিয়ে নিয়ে ওরেই স্টাইকে রাখার চেষ্টা করলাম। ইতোমধ্যেই দেখি হালিম স্যার দুজন স্যারকে নিয়ে মাঠে চলে এসেছেন।

-“ওয়াওওও, আমাদের নিউটন স্যার ক্রিজে। বাউন্ডারি হবে স্যার বাউন্ডারি”- হালিম স্যার আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই বাদবাকি খেলোয়াড়েরা “নিউটন স্যার” , “নিউটন স্যার” বলে চিয়ার্স করতে লাগল।

-“এই সমস্যাটাকে এখনই আসতে হলো, এখন তো বোল্ড হয়ে গেলেও লজ্জায় পড়ে যাব” মনে মনে বললাম।

শেষ ওভারে স্ট্রাইকিং প্রান্তে দাঁড়িয়ে আমি, দলীয় স্কোর নয় ওভারে ৬০/৫। তনয় ইতোমধ্যেই আউট হয়ে বিদায় নিয়েছে, শেষ উইকেটে যা করার করতে হবে। বলের গতি খানিকটা বুঝেই সজোরে অফ স্ট্যাম্পের দিকে ব্যাট চালালাম… সর্বনাশ, ক্যাচ উঠে গেছে…তাও সীমানাপ্রান্ত ঘেষে। বুকের ধুকপুকুনিটা বেড়েই গেল…এত ছেলেপেলে পদার্থবিজ্ঞানের কিছুই না বুঝে একের পর এক বাউন্ডারি মেরে গেল আর আমি শিক্ষক হয়ে একটাও বাউন্ডারি মারতে পারলাম না “ছি…কি লজ্জা”।

মাথা নিচু করে ক্রিজ ছাড়তেই শুনি “বাউন্ডারি”… “নিউটন স্যার”

কি ব্যাপার !!! কি হলো …? আচ্ছা, ফিল্ডারের হাত ফসকে বল সীমানার ওপারে। যাক বাবা, আল্লাহ এ যাত্রার রক্ষা করেছে। আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেল খুব, পরের চার বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ, কাভার ড্রাইভ, সুইপ , স্ট্রেইট ড্রাইভ…… গুণে গুণে চারটি চার। দলীয় স্কোর ৮০/৫। শেষ বলেও হাঁকালাম …ওভার বাউন্ডারি, কিন্তু শর্ট পিচের নিয়ম অনুযায়ী ওভার বাউন্ডারি মারলেই আউট।তাই আর কোন রান যোগ করতে পারলাম না, অবশ্য এই রানও কম না, জমিয়ে লড়াই করা যাবে।   

<<<<আগের পর্ব      পরের পর্ব>>>


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

স্নাতকের দিনগুলোর ষোলআনা - পর্ব ৪২

  মাইক্রোকন্ট্রোলার নিয়ে নুব লেভেলে কাজ করতে গেলে আর্ডিনোর বিকল্প হয়না , আর চারিদিকেও এই আর্ডিনোর জয়জয়কার চলছে। ক্যাম্পাস থেকে ফেরার পথে ফেম...