গতদিনের ঘটনায়
ক্লাসে ফাটাফাটি অবশ্য তেমন কিছুই হয়নি, কিছু উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ছাড়া। জহির ছেলেটা
এতটাই সহজ সরল যে নিমিষেই তার ভুল স্বীকার করে নিল, আর সাজ্জাদ ভাইও ব্যাপারটা সমঝোতা
করে দিলো। কিন্তু শারমিন ম্যাম আমাদের উপর ব্যাপক চটেছেন, এর শোধ তিনি সুদে আসলে নেবেন।
ক্লাসের ফাঁকে
আমরা ক’জন আজ দল বেঁধে ঘুরতে গেলাম সপ্তম তলার স্থাপত্য অনুষদের বিশাল ডিজাইন ল্যাবে।
ল্যাবের দরজা খোলা পেয়ে আমরা বেড়ালের মতো চুপি চুপি ঢুকে পড়লাম। যতই দেখছি ততই বিষ্মিত
হচ্ছি, সৃষ্টিশীলতার চরম শিখরে গেলে মানুষ কিই না বানাতে পারে তা এই স্থাপত্য অনুষদে
এসেই প্রথম টের পেলাম। শয়ে শয়ে পেরেক দিয়ে নির্মিত বিশাল মনুষ্য প্রতিকৃতি থেকে শুরু করে দারুণ দারুণ সব নির্মাণশৈলীর মডেল,
কাগজ, কাঠ, কাঁচ, রঙ, ইট-বালি-রড-সিমেন্ট দিয়ে মডেল কি নেই এতে। সবাই মিলে ছবি তুলতে
তুলতে ভুলেই গিয়েছিলাম ঠিক পরের ক্লাসটি দেবাশীষ স্যারের। হঠাৎ টের পেয়ে সাত তলা থেকে
দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে দোতলায় এসে দেখি ক্লাসের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ।
টানা দু-ঘন্টার
ক্লাস বাইরে বাইরে ঘুরতে হবে, ব্যাগও ক্লাসের ভেতর। নিয়তিকে মেনে নিয়ে আমরা ক’জন গেলাম
মজনু মামার টঙ এ আড্ডা দিতে। টঙ এ যেতেই দেখি শেষ বর্ষের সিনিয়র ভাইরা আড্ডা দিচ্ছেন।
আমরা ভয়ে ভয়ে যেতেই উনারা আমাদের আপন করে নিলেন, চা নাস্তা করালেন। বিশেষ করে আকিব
ভাই, মোশারফ ভাই, জামান ভাই।
-“তো নোবেল, তোরা
এবার ভার্সিটির ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এ টিম দিচ্ছিস না”? কাল-লম্বা করে ক্যাপ পরিহিত
CSE এর আকিব ভাই আমাদের নোবেলকে প্রশ্ন করলেন।
-“হ্যাঁ, ভাই দিব
তো । আমি আজকেই ক্লাসে গিয়ে বলব”।
নোবেলের কথাবার্তা
দেখে মনে হচ্ছিল এরা তার অনেক দিনের চেনা। তৈলমর্দন করে কথা বলা আর কথায় কথায় চটে যাওয়াতে
এই নোবেল অনিকের জুড়ি মেলা ভার। যা বুঝতে পারলাম, প্রকৌশল অনুষদের বিভিন্ন সেমিস্টার
থেকে ক্রিকেট টিম দেয়া হয় প্রতি বছর, এবং এই টুর্নামেন্ট টাই বছরে অনুষদের একটিমাত্র
মর্যাদার লড়াই। এই টুর্নামেন্ট এর চমক দেখানো খেলোয়াড়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল দলে খেলার
সুযোগ পায়। সাইদুল ছেলেটাকে দেখলাম একের পর এক বিড়ি ধরিয়ে যাচ্ছে, এই ছেলেটা যে হারে
বিড়ি টানে সেভাবে তো পানিও পান করেনা মনে হয়। বিড়ি টানতে টানতে সে বলল…
-তো বন্ধু, টিম
যে দিবি – নাম কি দিবি টিমের ?
আমাদের আলোচনায়
অমুক একাদশ, তমুক একাদশ বেশ কিছু নাম উঠল।
-“সার্কিট ব্রেকার”
??? মুখ ফসকে বেরিগে গেল আমার ।
-“ভাল নাম, আমরা
রাতে গ্রুপে এটা নিয়ে আলোচনা করব”। মীর সায় দিল আমার কথায়।
-“তার আগে চল আমরা
এন্ট্রি ফর্ম নিয়ে আসি”। - নোবেল মীরের কথার সাথে যোগ করল।
অবশেষে আমরা ফর্ম
নিয়ে ক্লাসে গিয়ে ঘোষণা করলাম টুর্নামেন্ট এর ব্যাপারে এবং আগ্রহীদের পরদিন মেডিক্যাল
ফিল্ডে সিলেকশান এর জন্যে আসতে বলা হলো। টিমের জন্যে টি-শার্ট কেনা, প্রিন্টিং ও টুর্নামেন্ট
এর ফি হিসেব নিকেশ করে জনপ্রতি ৩০০ টাকা বরাদ্ধ করা হলো।
ক্লাস শেষ করে
একরকম দৌঁড়ের মধ্যে বাসায় পৌঁছলাম কেননা দুপুর ৩ টার মধ্যেই কোচিং-এ পৌঁছাতে হবে, এরপর
ছাত্রদের নিয়ে যেতে হবে নেভালের দিকে একটা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। এলাকার একটা জনপ্রিয়
শর্টপিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-এ কোচিং থেকে নাম এন্ট্রি করা হয়েছে। আমাকে অধিনায়ক কাম
কোচ এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। মজার ব্যাপার হচ্ছে আমাকে দেখলে
যে-কেউ ধরে নেবে আমি ওদের মতোই এখনো স্কুল-কলেজের স্টুডেন্ট, আর তাই ওদেরই শিক্ষক হয়ে
ওদেরই সাথে খেলাতে একটু অস্বস্তিকর হলেও গত ছুটির দিনে মুসলিমাবাদ বীচ এ দু-একটা প্রস্তুতি
ম্যাচ খেলে ওদের খুব ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছি।
-“ভাইয়া, আমরা
টসে জিতলে আগে ব্যাটিং নিব কিন্তু। মাঠটাতে প্রথম দিকে ভাল রান আসে, পরে গিয়ে স্লো
হয়ে যায়” – পাকা খেলোয়াড়ের মতো আমাকে সমানে টোটকা দিয়ে যাচ্ছিল উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির
তনয়।
-“আগে বাকি খেলোয়াড়দের
প্রস্তুত কর, একটু পরেই আমরা রওনা দেব”। - একটু গম্ভীরভাবে বলার চেষ্টা করলাম।
ইতোমধ্যেই সোহেল,
সুজন , আরিফ , বাবলু, মোস্তাক এসে পড়েছে। সুজন আমার সহকারী অধিনায়ক, ওকে পেয়েই একটা
ছোট্ট মিটিং সেরে নিলাম দুজনে…
-তনয় বলছিল, আগে
ব্যাটিং নিলে নাকি জেতা সহজ ?
-আরে না ভাই। টার্গেট
নিয়ে ব্যাটিং করতে মজা। শর্ট পিচে ব্যাট হাতে তো খেলা হাতে।
-“আচ্ছা, বুঝলাম”।
তাহলে কি তনয় ছেলেটা এতক্ষণ আমাকে পরীক্ষা করছিল নাকি এভাবে বকবক করাটা ওর স্বভাব,
মনে মনে ভাবলাম।
হাজারো জল্পনা
কল্পনা মাথায় নিয়ে একঝাঁক খেলোয়াড় নিয়ে বাইরে বেরুলাম, কর্তৃপক্ষ থেকে বুঝে নিলাম যাতায়াত
ও নাস্তা খরচ। আমার মাথায় রাজ্যের দুশ্চিন্তা, শিক্ষক থেকে বনে গেলুম খেলোয়াড় কাম কোচ…
পারব তো নিজের মান সম্মান রক্ষা করতে ? আচ্ছা, যদি শূন্য রানে আউট হয়ে যাই !!! কিংবা
খেলার মাঠে যদি ক্যাচ বা ফিল্ডিং মিস করি তবে !!! এই পুঁচকে পাঁচকাদের সামনে তো নাক
কাটা যাবে। নাহ, হালিম স্যার বড্ড নির্দয় মানুষ, শিক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে জুনিয়র বলে
আমার উপরই চাপিয়ে দিলেন এই ঝামেলা।
আমাদের গাড়ি সীবিচ
রোড ধরে দ্রুতই পৌঁছে গেল খেলার মাঠে। ব্যাট, বল আর নাস্তা-পানির বোতল নামাতে নামাতে
তনয় বলছিল…
-ভাই মনে রাইখেন
ব্যাটিং ই নিবেন কিন্তু । ভুলেও বোলিং নিবেন না।
-আরেহ, আগে মাঠে
ত যাই। ক্যাপ্টেন তুমি না আমি ।
তনয় কি আমার ব্রেইন
ওয়াশ করার চেষ্টা করছে? অবশ্য উচ্চ মাধ্যমিক এর পর মেরিনে ভর্তির জন্যে “ব্রেইন ওয়াশ”
নামের এক কোচিং ভর্তি হয়েছিলাম । সেই কোচিং-ই তো যা ওয়াশ করার করে দিয়েছে। এই বাচাল
তনয় আবার কিই বা করবে?
এসব ভাবতে ভাবতে
আমি একটু পিছিয়ে পড়েছিলাম আর তখনই ঘটল সেদিনের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। উঁচুনিচু মাটিতে
হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলুম আমি, দ্রুত উঠে দাঁড়াতেই আবিষ্কার করলাম – আমার ট্রাউজার দুই
পায়ের মাঝে ছিঁড়ে গিয়েছে। ভেতরে অন্তর্বাস ছিল বলে রক্ষে, নয়ত কি বিতিকিচ্ছিরি কান্ডটাই
না ঘটতে যাচ্ছিল আমার সাথে। আমি আমার সহ-অধিনায়ক কে ডেকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বললাম, আর
ওকে টস করতে যেতে অনুরোধ করলাম।
আমরা এসেছি প্রায়
ত্রিশ মিনিট হয়ে গেছে। সেই কবে থেকে আমি সৈনিক-দের মতো সাবধান হয়ে দাঁড়িয়ে আছি, একটু
এদিক সেদিক হলেই লজ্জায় পড়ে যাব। বিপক্ষ দল এখনো মাঠে এসে পৌঁছায়নি, বাইলজে আছে নির্ধারিত
সময়ের কুড়ি মিনিটের মধ্যে কোন দল মাঠে উপস্থিত হতে না পারলে বিপক্ষ দল ওয়াক-ওভার পাবে।
যদিও আমরা চল্লিশ মিনিট অপেক্ষা করে ওয়াক-ওভার পেইয়ে গেলাম। আয়োজক কমিটির সাথে আমার
টিমের খেলোয়াড়রা একটা ছোট্ট প্রীতি ম্যাচ খেলে, কিন্তু আমি তাতে শরীক না হয়ে কর্তব্যপরায়ণ
কোচের দায়িত্ব পালন করছিলাম, অথচ ব্যাট-বল দেখলে আমাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারে না।
যাক বাবা অনেক
বড় বাঁচা বেঁচে গিয়েছি আজ, এই ছেঁড়া ট্রাউজার নিয়ে খেলতে গেলে ছাত্রদের সামনে মান-সম্মান
যেটুকু আছে তাও হারাতাম। সন্ধ্যেয় বাসায় এসে হাত মুখ ধুয়ে পড়ার টেবিলে বসলাম…ভার্সিটির
খাতাটা নিয়ে একটু ওলট-পালট করে আম্মাকে বুঝাই যে আমি অনেক সিরিয়াস। কিন্তু বসতে না
বসতেই বিদ্যুৎ গেল চলে, আঁধারে হাতড়ে মোমবাতি জ্বালালাম আর একটা IPS এর প্রয়জনীয়তা
তীব্রভাবে অনুভব করলাম। কথায় আছে, প্রয়োজনীয়তাই উদ্ভাবনের জনক। IPS অবশ্য বহু আগেই
আবিষ্কৃত হয়েছে, এখন আমাকে নিজের জন্যে একটা মিনি IPS বানাতে হবে।
ফেসবুক গ্রুপে
ঢুকে দেখলাম ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, আমার দেয়া “সার্কিট ব্রেকার”
নামটি সকলের পছন্দ হলো, আর যথারীতি গ্রুপেই স্বিদ্ধান্ত নেয়া হলো আগামীকাল ল্যাব ক্লাস
শেষেই সবাই চকবাজার প্যারেড গ্রাউন্ডে চলে যাবে, ওখানেই টিম সিলেকশান হবে।
এখন আমি তো পড়ে
গেলাম আরেক চিন্তায়, ট্রাউজার যা ছিল একটা ওটাও ছিঁড়ে গেছে। কাল সেলাই করে নিয়ে গেলাম
নাহয়, যদি আবার ছিঁড়ে ? তখন বন্ধুদের সামনে কানকাটা যাবে। এইসব ভাবতে ভাবতে ট্রাউজার
সেলাই করে ঘুমিয়ে পড়লাম।
>>>>>>>>>>>>>>>>
সকাল সকাল উঠেই
গোগ্রাসে নাস্তা করে ব্যাট-স্ট্যাম্প নিয়েই বেরোতে যাচ্ছিলাম আর আম্মা সাথে সাথেই
-লাঠি ডান্ডা লই
এনে কডে যদ্দে? মারামারি গরিবিনি কনু ?
-না না , ক্রিকেট
ম্যাচ আছে ভার্সিটি তে।
কোন রকমে বাসা
থেকে বের হয়েই প্রাণপণ ছুটে চলা। ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারলেই যেন বাঁচি। ক্যাম্পাসে গিয়ে
ক্যান্টিনে ফটোকপির দোকানে ব্যাট-স্ট্যাম্প রাখতে গিয়েই দেখি পোলাপান সব দল বেঁধে সাদা
কাগজে কিসব লিখছে।
-কিরে প্রসেনজিত,
কি করস ?
-ল্যাব রিপোর্ট
লিখি।
না বাংলা সিনেমার
প্রসেনজিত না , আর তাই ওর নাম দিয়েছি আমরা “প্রসেন”। বেচারা চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে
বছর দুয়েক এপ্লাইড ফিজিক্স এ পড়ে এখানে চলে আসছে, রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসা করতে
গিয়ে তারও পড়ালেখায় ছেদ পড়ে। প্রসেন কে এবার প্রশ্ন করলাম-
-ভাই, ল্যাব রিপোর্ট
কি?
-আরে গত ক্লাসে
না বলছে ম্যাম, কম্পিউটার ল্যাবে।
-অইটা তো প্রোগ্রামিং
শিখাইছে কম্পিউটার এ।
-হ্যাঁ , ওটা এখন
রিপোর্ট আকারে জমা দিতে হবে ।
-ও আচ্ছা বুঝছি
এখন। কিন্তু আমার তো প্রোগ্রাম টা মনে নাই , কি লিখব?
-তুই কথা বলিস
না , ধর আমার থেকে পেজ নে… দেখে দেখে লেখ।
-“বাহ, এত সোজা
!!! দেখে দেখে লিখলেই হয়ে যাবে”। মনে মনে ভাবলাম আমি। অল্প কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই
পেজের পর পেজ লিখতে লিখতে হাত ব্যাথা করছিল…কি দরকার ছিল এসবের , ফটোকপি করে দিতে বললেই
হয়ে যেত।
প্রথম দিন রিপোর্ট
লিখে জমা দিয়েই আবিষ্কার করলাম যতটা সহজ ভেবেছিলাম ততটা না এই রিপোর্ট লেখা। কপি করার
দায়ে অনেকের রিপোর্ট ম্যাম সাইন করে নাই। কি আর করা ল্যাব ক্লাস শেষে সিলেকশান এর জন্যে
প্যারেড গ্রাউন্ড এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম আমরা।
প্রবর্তক থেকে
চকবাজার হেঁটেই যাওয়া যায়, আমরা দল বেঁধে সব গল্প করতে করতে পৌঁছে গেলাম প্যারেড ফিল্ডে।
চট্রগ্রাম কলেজের পাশেই এই বিশাল খেলার মাঠ, এর আগেও অনেকবার আসা হয়েছিল তবে কোনবারই
খেলার জন্যে নয়। অল্প সময়ে কমবেশি সবার পারফর্মেন্স দেখার জন্যে একটি ম্যাচ খেলার বিকল্প
নাই আর তাই আমি ও নোবেল খুব দ্রুত উপস্থিত সবাইকে দুটো দলে ভাগ করলাম। পুরো খেলাজুড়ে
ছিল চরম বিশৃঙ্খলা আর নোবেল অনিকের একচ্ছত্র আধিপত্য। এমনিতেই আমাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা
এখনো ঠিক জমে উঠেনি, তার উপর নোবেল অনিকের মতো একজন যখন জোর করে নেতৃত্ব খাটাতে যায়,
তখন আর কিছু বলার থাকে না। ওর চরম বাড়াবাড়িতে নেতৃত্বটা ওর হাতেই ছেড়ে দিতে হয় আমাকে,
সহকারী অধিনায়ক হিসেবে মাঠে থেকে আমার দায়িত্বটুকু পালন করছিলাম কেবল। দিনশেষে আমাদের
মধ্যে কথোপকথন…
-কি অবস্থা, কেমন
দেখলি?
-বেশির ভাগই গড়পড়তা
মানের, রেসের ঘোড়া নাই একটাও।
-উইকেট কিপার হিসেবে
শাওন থাকুক আপাতত, সাইদুল আর আলী আজম তো ভালোই বল করে।
-রিয়াদ ও , আর
দীপ্ত? ইতা তো পুরাই ব্রাভো স্টাইল।
-হা হা হা, দারুন
বলছিস ব্রাভো। ব্যাটসম্যান নাই টিমে ভাল, জেনুইন ব্যাটসম্যান লাগবে।
-আমি আছি না, কুল
ম্যান। অনেকেই আসতে পারে নাই আজকে, কাল ক্লাসে বলব দেখি।
খুব বাজে একটা
দিন গেল সবার, এই কাকফাটা রোদের মধ্যে খেলেও কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারা, বারকয়েক
ওয়ারিফ ও নোবেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি ইত্যাদি ইত্যাদি।
-“নোবেইল্লা বেশি
ঘাড়ত্যাড়া, কেপটেন্সি তুমি নাও ভাই”- যাবার প্রাক্কালে ওয়ারিফ আমাকে বলছিল।
-“থাক, ও আয়োজক
কমিটির কাছের মানুষ। আমি ভাইস ক্যাপ্টেনই থাকি।”
-“এগুলা ভাই মেনে
নেয়া যায় না, এই শুক্রবার আবার একটা ম্যাচ আয়োজন কর”- জিগর যোগ করল।
-“আচ্ছা দেখতেছি।”-
মৃদ্যু সম্মতি দিলাও ওদের কথায়। কিন্তু আমার মাথায় চলছিল কোন এক লিজেন্ড ক্রিকেটারের
সেই বিখ্যাত উক্তি…
“Cricket is a team game, if you want fame for yourself, go play an individual game”.

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন